ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শেরপুরের শ্রীবরদীতে উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্তে তৎপর পুলিশ স্পিকার: সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন দুবাই ভ্রমণে এমিরেটসের বোনাস মাইল পাওয়ার বিশেষ অফার ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যকে ‘নির্বোধ’ বললেন মাক্রোঁ মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত দুই কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে চার পর্যটকের প্রাণহানি নির্বাচন পরবর্তী ইরানে সামরিক হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, নতুন দর কার্যকর সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী: সারাদিনের সফরসূচি

ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল

  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গেন্ডারিয়ার একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই ঘটনাটি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

ইশরাক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে দুপুরে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন। ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্ত আলোচনা হয়। বৈঠকের সময় হলে তিনি বাইরে অপেক্ষা করেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে পুনরায় সভায় যোগ দিয়ে নির্ধারিত আসনে বসেন। ওইদিনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে আবারও তার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, দল কখনোই মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের পদত্যাগ চায় না। তিনি দাবি করেন, একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট এবং কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে তাকে ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনার ব্যাখ্যায় ইশরাক জানান, ১৭ অক্টোবর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালানোর আগে তিনি গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলিবর্ষণ করতে পারে—এমন নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কার কারণেই তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন। তিনি জানান, ভিডিওতে যে চিত্র দেখা গেছে তা পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ছিল। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

যদিও শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা পাওয়ার খবরটিকে তিনি ‘সর্বৈব মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবে সোমবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। এভাবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন ইশরাক হোসেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের অনেক নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইশরাক জানান, তারা তাকে ফোন করে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা মূল কর্মীরা তাকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং সেই আগ্রহ এখনো অটুট আছে। বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল

আপডেট সময় : ০৩:১৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

গেন্ডারিয়ার একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই ঘটনাটি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

ইশরাক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে দুপুরে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন। ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্ত আলোচনা হয়। বৈঠকের সময় হলে তিনি বাইরে অপেক্ষা করেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে পুনরায় সভায় যোগ দিয়ে নির্ধারিত আসনে বসেন। ওইদিনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে আবারও তার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, দল কখনোই মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের পদত্যাগ চায় না। তিনি দাবি করেন, একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট এবং কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে তাকে ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনার ব্যাখ্যায় ইশরাক জানান, ১৭ অক্টোবর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালানোর আগে তিনি গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলিবর্ষণ করতে পারে—এমন নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কার কারণেই তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন। তিনি জানান, ভিডিওতে যে চিত্র দেখা গেছে তা পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ছিল। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

যদিও শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা পাওয়ার খবরটিকে তিনি ‘সর্বৈব মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবে সোমবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। এভাবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন ইশরাক হোসেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের অনেক নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইশরাক জানান, তারা তাকে ফোন করে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা মূল কর্মীরা তাকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং সেই আগ্রহ এখনো অটুট আছে। বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।