মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের শীর্ষে
- আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকির মুখে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
সর্বশেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বা ৩ ডলার ৫৫ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ২৯ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ২৭ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে। ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য।
জ্বালানি তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো অব্যাহত রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, খুব দ্রুতই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
ইরানের সামরিক প্রধান অবশ্য জানিয়েছেন যে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পর দেশটির বাহিনী যে কোনো অসম যুদ্ধের মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত করেছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে বুধবারের ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। একই দিন দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরানের সংবাদমাধ্যম দেশটির সামরিক প্রধানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পর ইরানি বাহিনী অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে কর্মরত তাদের অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মীদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। সৌদি আরামকো কর্তৃপক্ষও তাদের ধাহরান সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং দূর থেকে কাজ করার নির্দেশনা জারি করেছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের মতো বড় উৎপাদক দেশের অবকাঠামো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। এখন তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা, ইসরাইলের পরবর্তী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়—তার ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে সৌদির মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণে তেলের সরবরাহব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

























