মেয়াদ শেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ রাকসুর, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ১০:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। সেই হিসেবে নির্বাচনের ১০ দিন পর অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এবার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কোনো আইনি বিধান নেই।
তাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি বা উদ্যোগের কথা শোনা যায়নি। উপাচার্য বলেন, রাকসু ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরাও চাই এটি চলমান থাকুক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলভি বলেন, রাকসু কোনো দান নয়, এটি আমাদের অধিকার। নির্বাচন না হলে এটি নেতৃত্বের বিকাশ ও শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধনে বাধা সৃষ্টি করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি আদায় না হলে রাজপথে নামার বিকল্প নেই। রাবির সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভি বলেন, রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।
বর্তমান সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রশাসন গতবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন দেওয়ার আগ্রহের অভাব স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য কথা দিয়েছেন নির্বাচন দেবেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কোনো প্রকার তালবাহানা করা হলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে পুনরায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি আমরা।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পরবর্তী নির্বাচন আদায়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, রাকসু সফল না ব্যর্থ, তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াই এই সংসদের অন্যতম অর্জন। শিক্ষার্থীরা এখন বুঝতে পারছেন কী প্রয়োজন ছিল আর কী করা সম্ভব হয়নি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদেও এ প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে।
এজিএস সালমান সাব্বির জানান, বর্তমান সংসদ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পেরেছে, যা তাদের বড় সফলতা। তিনি জানান, সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষকে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বরং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা।
১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করা এই ছাত্র সংসদটি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনে স্থবির ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ রাখা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৫ বছর এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, যেখানে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি ও এজিএস পদসহ ২০টি পদে জয়ী হয়।

























