ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ অজানা, মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা বলতেন বাবা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: সৌদিগামী ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী বৃষ্টির বাগড়ায় ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা স্থগিত বিচারকদের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্তের কথা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তৃতীয় প্রান্তিকে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যাকাণ্ডের মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের কারাদণ্ড শাহজালালে ১২ কেজি স্বর্ণসহ আটক দুই বিদেশী যাত্রী পেন্টাগনের প্রধান সামরিক পরিকল্পনাবিদকে বরখাস্ত করলেন পিট হেগসেথ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার নিথর দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ অজানা, মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা বলতেন বাবা

  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ জানেন না তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তবে তাহসিফ মাঝেমধ্যে আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা তাঁকে বলতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কী নিয়ে তাঁর ছেলে আশঙ্কায় ছিলেন, তা জানতেন না বাবা।

পরিবারের বক্তব্য ও আশঙ্কার কথা

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাসায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তিনি বলেন, ‘তাহসিফ মাঝেমধ্যে আমাকে বলতেন, সে একটু আশঙ্কার মধ্যে আছে। তবে কী নিয়ে ভয় বা আশঙ্কা, তা কখনো পরিবারকে জানায়নি।’

ছেলেকে কেউ সরাসরি হুমকি দিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি-ধমকির কথা তাহসিফ তাঁদের কখনো জানায়নি। তবে মাঝেমধ্যে কেবল আশঙ্কার কথা বলত। তাহসিফের বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তাঁদের জানানো হয়। পরবর্তীতে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজ এবং সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার বিবরণ

ছেলের স্বভাব সম্পর্কে বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সব পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে তাহসিফ সারাদিন তাঁর মায়ের সঙ্গে ছিল এবং পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করে। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনে এনেছিল সে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।

  • সন্ধ্যার পর তাহসিফের এক জুনিয়র বন্ধু বাসায় নিচে এসে তাঁকে ডাকেন।
  • তাহসিফ তাঁর মাকে বলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি।’
  • নিচে যাওয়ার পর তাহসিফ আর রাতে বাসায় ফেরেননি।
  • মা অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি; রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ মেসেজ দিয়ে লেখেন, ‘মমি আসছি।’

মরদেহ উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ

ছেলের খোঁজে প্রথমে তুরাগ থানায় যান বাবা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, এমন কোনো খারাপ খবর তাঁদের কাছে নেই। পরবর্তীতে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বললে তিনি তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানান। মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে তাহসিফের বাবা জানান, ওই দুর্গম এলাকায় তাঁর ছেলে কখনো যেত না।

কারা বা কে তাহসিফকে হত্যা করেছে বা ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তাঁরা জানেন না বলে জানান বাবা।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। নৌপুলিশের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ অজানা, মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা বলতেন বাবা

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ জানেন না তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তবে তাহসিফ মাঝেমধ্যে আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা তাঁকে বলতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কী নিয়ে তাঁর ছেলে আশঙ্কায় ছিলেন, তা জানতেন না বাবা।

পরিবারের বক্তব্য ও আশঙ্কার কথা

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাসায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তিনি বলেন, ‘তাহসিফ মাঝেমধ্যে আমাকে বলতেন, সে একটু আশঙ্কার মধ্যে আছে। তবে কী নিয়ে ভয় বা আশঙ্কা, তা কখনো পরিবারকে জানায়নি।’

ছেলেকে কেউ সরাসরি হুমকি দিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি-ধমকির কথা তাহসিফ তাঁদের কখনো জানায়নি। তবে মাঝেমধ্যে কেবল আশঙ্কার কথা বলত। তাহসিফের বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তাঁদের জানানো হয়। পরবর্তীতে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজ এবং সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার বিবরণ

ছেলের স্বভাব সম্পর্কে বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সব পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে তাহসিফ সারাদিন তাঁর মায়ের সঙ্গে ছিল এবং পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করে। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনে এনেছিল সে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।

  • সন্ধ্যার পর তাহসিফের এক জুনিয়র বন্ধু বাসায় নিচে এসে তাঁকে ডাকেন।
  • তাহসিফ তাঁর মাকে বলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি।’
  • নিচে যাওয়ার পর তাহসিফ আর রাতে বাসায় ফেরেননি।
  • মা অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি; রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ মেসেজ দিয়ে লেখেন, ‘মমি আসছি।’

মরদেহ উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ

ছেলের খোঁজে প্রথমে তুরাগ থানায় যান বাবা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, এমন কোনো খারাপ খবর তাঁদের কাছে নেই। পরবর্তীতে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বললে তিনি তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানান। মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে তাহসিফের বাবা জানান, ওই দুর্গম এলাকায় তাঁর ছেলে কখনো যেত না।

কারা বা কে তাহসিফকে হত্যা করেছে বা ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তাঁরা জানেন না বলে জানান বাবা।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। নৌপুলিশের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।