ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকোট লালমোহনে দৈনিক বাংলাদেশ বাণীর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত তাহসিফ সাউরি মামলা: জেরিকা দিশার চার দিনের রিমান্ড ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীর লন্ডন ভ্রমণ বাতিল সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ১৭৭ কারখানায় আজকের ছুটি ঘোষণা পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে বিজনেস ট্রাভেলার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: বিশ্বের সেরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের আহ্বান জানালেন এনইউ ভিসি মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রোরেলের সব স্টেশন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকোট

  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার প্রধান নির্বাচনের লড়াইয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে গাদি আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পার্টি আইজেনকোটকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ নেতা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আরব দলগুলো প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আলোচনার সময় আইজেনকোটের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে গ্রহণ করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এরপর তিনি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিজ বাসভবনে আমন্ত্রণ জানাবেন। প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের রায় মেনে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দলগুলো যদি কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। হারজগের ভাষায়, রাজনৈতিক নেতাদের উদার মনোভাব নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। পরস্পরের বক্তব্য শুনে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নতুন নির্বাচন এড়াতে বাস্তবসম্মত ও সৃজনশীল সমাধান বের করতে হবে।

প্রেসিডেন্টের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো বুধবার থেকে আলোচনা শুরু করতে পারে যা শুক্রবার পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদানের জন্য একজন নেতাকে মনোনয়ন দিতে হবে। সাধারণত যে নেতা পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যের সুপারিশ বা সমর্থন লাভ করেন, তিনিই এই দায়িত্ব পান। বর্তমানে এই সমীকরণে গাদি আইজেনকোটের অবস্থানই শক্তিশালী দেখা যাচ্ছে। তবে তা বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যক সুপারিশ পাওয়াই সরকার গঠনের নিশ্চয়তা নয়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকোটের পক্ষে ৬০ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর শরিক দল ইসরাইল বেইতেনু তাকে সমর্থন প্রদান করে, তবে এই সংখ্যা বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে লিকুদ, ওতজমা ইহুদিত, শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি থেকে মোট ৪৬টি সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট, দলটি আপাতত নিরপেক্ষ থাকার কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আইজেনকোটের পক্ষে ৬০, নেতানিয়াহুর ৪৬।

তবে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনয়ন পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হবে না। মনোনীত নেতাকে পরবর্তীতে বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জোট সরকার গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোটে জয়লাভ করাও হবে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকোট

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার প্রধান নির্বাচনের লড়াইয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে গাদি আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পার্টি আইজেনকোটকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ নেতা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আরব দলগুলো প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আলোচনার সময় আইজেনকোটের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে গ্রহণ করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এরপর তিনি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিজ বাসভবনে আমন্ত্রণ জানাবেন। প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের রায় মেনে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দলগুলো যদি কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। হারজগের ভাষায়, রাজনৈতিক নেতাদের উদার মনোভাব নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। পরস্পরের বক্তব্য শুনে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নতুন নির্বাচন এড়াতে বাস্তবসম্মত ও সৃজনশীল সমাধান বের করতে হবে।

প্রেসিডেন্টের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো বুধবার থেকে আলোচনা শুরু করতে পারে যা শুক্রবার পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদানের জন্য একজন নেতাকে মনোনয়ন দিতে হবে। সাধারণত যে নেতা পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যের সুপারিশ বা সমর্থন লাভ করেন, তিনিই এই দায়িত্ব পান। বর্তমানে এই সমীকরণে গাদি আইজেনকোটের অবস্থানই শক্তিশালী দেখা যাচ্ছে। তবে তা বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যক সুপারিশ পাওয়াই সরকার গঠনের নিশ্চয়তা নয়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকোটের পক্ষে ৬০ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর শরিক দল ইসরাইল বেইতেনু তাকে সমর্থন প্রদান করে, তবে এই সংখ্যা বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে লিকুদ, ওতজমা ইহুদিত, শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি থেকে মোট ৪৬টি সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট, দলটি আপাতত নিরপেক্ষ থাকার কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আইজেনকোটের পক্ষে ৬০, নেতানিয়াহুর ৪৬।

তবে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনয়ন পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হবে না। মনোনীত নেতাকে পরবর্তীতে বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জোট সরকার গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোটে জয়লাভ করাও হবে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।