শেখ হাসিনার শান্তিতে থাকার দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়: তথ্য উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে এবং তা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যেভাবে বারবার শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তা থেকে উত্তরণের পর এখন তিনি যে শান্তিতে থাকতে দেবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর আমরা নিশ্চয়ই আবার এ কথা বলবো।’। শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে নিজের আগের মূল্যায়ন ভুল ছিল বলে স্বীকার করবেন এবং ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে তিনি যদি ওই কথা বলতে পারেন, তাহলে এখন আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, ‘উনি নিজে আসুন অথবা আমরা উনাকে ধরে নিয়ে আসি, আমাদের চাওয়া তো একই।’।
তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় থাকলেও মাঠপর্যায়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে।
সাম্প্রতিক পোশাকশিল্পের অস্থিরতার সঙ্গে ওই দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তবে ডিসেম্বর মাসে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে—এমন ধারণার সঙ্গে এখনই একমত নন তিনি। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আসুক, সময়টা শেষ হোক, এরপরই প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখনকার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্ণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তার প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করছে না, বরং তাকে ফিরিয়ে আনাই বর্তমান লক্ষ্য। বর্তমান সরকার চায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক, তাই স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে পরিস্থিতি সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে উঠা নানা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে বিরোধীদের ওপর যেভাবে মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হতো, বর্তমান সরকারের ভাষ্যকে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ভুল হবে। বর্তমান সরকার তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলছে এবং ভুল কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। একটি স্বৈরাচারী সরকার ও একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণের মধ্যে পার্থক্য থাকবে।
পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশকে আইন ও পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বুঝে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আগের সরকারের মতো নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ না করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর বলপ্রয়োগের আইনি ক্ষমতা থাকলেও সেক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও আনুপাতিক হার বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তা দ্রুত নিরসন করা সম্ভব। প্রকৃত শ্রমিকরা দাবি পূরণ হলে আন্দোলন থেকে সরে আসবেন এবং এতে অন্য কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সহিংসতা ঘটাতে পারবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তখন অন্য কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো কঠিন হবে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সে সময় পরাজয়ের পর তিনি যেভাবে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, সেই একই মানসিকতা এখনো থাকতে পারে বলে সরকার মনে করে। এ কারণেই কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে সরকার কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নও আসতে পারে।
























