পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পল্লবী ও মিরপুরের কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হতে দেখলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে কয়েক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে উপকমিশনারের (ডিসি) হস্তক্ষেপে তাঁদের বুঝিয়ে বলার পর বুধবার সকাল থেকে কারখানাটিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও সেখানে শ্রমিকদের দেখা যায়নি। ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওই এলাকায় মোট আটটি কারখানা থাকলেও বেশিরভাগই সচল। কেবল একটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল, যা ডিসির হস্তক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত কয়েক দিনের মতোই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি। সকালে পূরবী সিনেমা হলের গলিতে শ্রমিকদের অবস্থানের চেষ্টা নস্যাৎ করে পুলিশ।
পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত ১ নভেম্বর, যেদিন বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সোম ও মঙ্গলবারও মিরপুরে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
ওইদিন মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মিরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে। একই দাবিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, মজুরি ইস্যুতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার গত ১ নভেম্বর মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের প্রথম সভা আজ বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মজুরি বৃদ্ধির এই আন্দোলন করতে গিয়ে গাজীপুরে তৌফিক শেখ নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছিলেন, যিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালে মারা গেছেন। শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ এখন সবার নজরে রয়েছে।






















