ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাড্ডায় জামায়াতের বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হার উদযাপন করছে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর চাঙ্গা বিশ্ববাজার, দর কমল ডলারের গ্রাউন্ড সার্ভিস আধুনিকায়নে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ইউএস-বাংলার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ট্রাভেল পাস মিলবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভিয়েতনামের বিমান শিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি আনছে এয়ারবাস

ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা

  • আপডেট সময় : ০৬:২০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ অবসানে সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় নতুন শর্ত জুড়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। গত ৫ নভেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছে। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির শর্তও দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব আলোচনার পথে হাঁটছে। রিয়াদ একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজলেও, হুথিদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেনের শাসক হিসেবে মেনে নেওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এমন সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি-সমর্থিত বর্তমান ইয়েমেনি সরকারের বৈধতা যেমন সংকটে পড়বে, তেমনি দীর্ঘদিন যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া রিয়াদকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাবে।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তারে। হুথিরা বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এডেনের সন্নিকটে তাদের অবস্থান জোরদার করছে, যা সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সামরিক আধিপত্য ছাড়া হুথিদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে যেতে অনাগ্রহী, কিন্তু পুনরায় সেনা মোতায়েন করলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কারণে রিয়াদের ওপর চাপ বাড়ছে।

আঞ্চলিক মিত্রদের থেকেও সৌদি আরব আশানুরূপ সমর্থন পাচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। পাকিস্তানও সরাসরি ইয়েমেনে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক মিশনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করছে।

গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ইরান হুথিদের সহায়তা করায় এই সংঘাত এখন কেবল স্থানীয় নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সমঝোতার টেবিলে এখন ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ সরকারের রাজনৈতিক কাঠামো এবং সৌদি সীমান্তের নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোও মুখ্য হয়ে উঠছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি, তবে চলমান এ আলোচনা ইয়েমেন সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা

আপডেট সময় : ০৬:২০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ অবসানে সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় নতুন শর্ত জুড়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। গত ৫ নভেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছে। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির শর্তও দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব আলোচনার পথে হাঁটছে। রিয়াদ একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজলেও, হুথিদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেনের শাসক হিসেবে মেনে নেওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এমন সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি-সমর্থিত বর্তমান ইয়েমেনি সরকারের বৈধতা যেমন সংকটে পড়বে, তেমনি দীর্ঘদিন যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া রিয়াদকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাবে।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তারে। হুথিরা বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এডেনের সন্নিকটে তাদের অবস্থান জোরদার করছে, যা সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সামরিক আধিপত্য ছাড়া হুথিদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে যেতে অনাগ্রহী, কিন্তু পুনরায় সেনা মোতায়েন করলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কারণে রিয়াদের ওপর চাপ বাড়ছে।

আঞ্চলিক মিত্রদের থেকেও সৌদি আরব আশানুরূপ সমর্থন পাচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। পাকিস্তানও সরাসরি ইয়েমেনে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক মিশনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করছে।

গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ইরান হুথিদের সহায়তা করায় এই সংঘাত এখন কেবল স্থানীয় নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সমঝোতার টেবিলে এখন ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ সরকারের রাজনৈতিক কাঠামো এবং সৌদি সীমান্তের নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোও মুখ্য হয়ে উঠছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি, তবে চলমান এ আলোচনা ইয়েমেন সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।