যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর চাঙ্গা বিশ্ববাজার, দর কমল ডলারের
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমেছে এবং ডলারের দরে কিছুটা ভাটা পড়েছে। প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান সূচক ০ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের কার্যদিবসেও ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিল জানিয়েছেন, নির্বাচনের এই ফলাফলে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটি পডকাস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বন্ডের বাজারসহ সাম্প্রতিক আর্থিক পরিবর্তনের সাথে নির্বাচনী ফলাফলের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতিতে খুব বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সভায় অন্তত ০ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮১ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের দিনে ছিল ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে ইউরোর মান ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১২৪১ ডলারে পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দর ০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৮ দশমিক ২৫ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০১ ডলারে এবং নিউজিল্যান্ডের ডলারের মান ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৫৬২৭ ডলারে অবস্থান করছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আসন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে পাউন্ডের মান ১ দশমিক ৩৫০৩ ডলারে পৌঁছায়, যা গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো পাউন্ডের এই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ২০০৬ সালের ৬ জুলাই শেষ হওয়া টানা আট দিনের ধারাবাহিক বৃদ্ধির পর দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড।
মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে। তবে আগামী বছর সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সতর্ক অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিওজে) সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে সুদের হার আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই বৈঠকে নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করেছিলেন এবং একজন নীতিনির্ধারক দ্রুত হার বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রয়েছে বাজার বিশ্লেষকদের। এডিপির জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে ৮৬ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যেখানে রয়টার্সের জরিপে ৬৯ হাজার কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি বুঝতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শুক্রবার সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই সপ্তাহের শ্রমবাজার বিষয়ক তথ্যের প্রকাশ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
























