ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

  • আপডেট সময় : ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা কিংবা অন্য কোনো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা অথবা সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো তিনটি বিকল্প এখন তার বিবেচনায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নির্মূল করা এবং তা যেন ভবিষ্যতে আর পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই মূলত সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্ভব হলে তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে হয়তো তাকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুতই সবকিছু স্পষ্ট হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প যখন সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন, ঠিক তখনই ইরানকে ঘিরে জোরদার হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাতার এরই মধ্যে ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য হলো কয়েক ধাপের পদক্ষেপে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা। কায়রোর একটি চুক্তির ভিত্তিতে এই প্রস্তাবে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয় রয়েছে, যার বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেবে।

এরই মধ্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রেজাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা তিনি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পুতিন সহায়তা করতে আগ্রহী। তবে কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সাতটি শর্ত রয়েছে বলে রেজাই উল্লেখ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকানরা এই শর্তগুলো পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপের আগমনকে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রণতরীটি শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা কিংবা অন্য কোনো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা অথবা সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো তিনটি বিকল্প এখন তার বিবেচনায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নির্মূল করা এবং তা যেন ভবিষ্যতে আর পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই মূলত সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্ভব হলে তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে হয়তো তাকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুতই সবকিছু স্পষ্ট হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প যখন সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন, ঠিক তখনই ইরানকে ঘিরে জোরদার হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাতার এরই মধ্যে ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য হলো কয়েক ধাপের পদক্ষেপে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা। কায়রোর একটি চুক্তির ভিত্তিতে এই প্রস্তাবে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয় রয়েছে, যার বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেবে।

এরই মধ্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রেজাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা তিনি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পুতিন সহায়তা করতে আগ্রহী। তবে কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সাতটি শর্ত রয়েছে বলে রেজাই উল্লেখ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকানরা এই শর্তগুলো পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপের আগমনকে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রণতরীটি শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছাবে।