ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিমানবন্দরের চার্জ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা বেবিচকের ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি তাওহীদ হৃদয়ের সামনে টেকনাফের পাহাড়ে তল্লাশি শেষে যা জানালো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামপুলিশের বেতন ও অবসর সুবিধা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী ভোলায় ১৬ বছর ধরে জরাজীর্ণ ব্রিজে চলাচলে ঝুঁকি ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে সরকার, জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি তাওহীদ হৃদয়ের সামনে

  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্ট ম্যাচে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং যেন এক রূপকথার গল্প। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা হৃদয় দলের চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নবিরতির আগেই দল ৭ উইকেটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে, যা কার্যত ৮ উইকেট হারানোর সমান। কারণ গোড়ালির চোটে পড়া সাদমান ইসলাম আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে টেলএন্ডারদের নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা আর চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে তিনি লিড নামিয়ে এনেছেন পঞ্চাশের নিচে। মধ্যাহ্নবিরতির পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যেটা করলেন তাওহীদ হৃদয়, সেটা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। কারণ গোড়ালির চোটে ছিটকে পড়া সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার প্রকৃতপক্ষে কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে টেইলেন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের কাঁধেই। মাত্র তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা হৃদয় সেই কাজটা করলেন পেশাদারদের মতোই। এর আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে রোববার প্রথম ৭ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন।

লাঞ্চের পর দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ১১৩ রান যোগ করে। এই সময়ে হৃদয় একাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের শাসন করেছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে তারা গড়েছেন ১১৭ রানের বিশাল জুটি, যা এই পজিশনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাইজুল ২২ রান করে ক্লোজ স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরলেও তাদের এই জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। দিনশেষে চা বিরতির আগ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ১৭ রান যোগ করেছেন হৃদয়। তিনি নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে আছেন। দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৮ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এখনও ৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে।

এর আগে দিনের শুরুতে প্রথম ৭ ওভারে বাংলাদেশ ৩৩ রান সংগ্রহ করলেও ছন্দপতন ঘটে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন তিনি, ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। মুশফিকের পথ ধরে একইভাবে আউট হন লিটন দাসও (৮ রান)। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে হৃদয়ের ৪১ রানের জুটি গড়ে ওঠে। তবে জাস্টিন গ্রিভসের দারুণ এক ক্যাচে প্যাডেল সুইপ খেলতে গিয়ে মিরাজ বিদায় নেন। ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চেজের বলে মিরাজ আগেভাগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মিরাজ, কিন্তু বলটি মাটিতে রাখতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি দ্রুত পাশের দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন।

দলের টেলএন্ডারদের মধ্যে বল হাতে উজ্জ্বল থাকা হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতে মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন। চা বিরতির আগে তাইজুল ইসলাম ১ রানে অপরাজিত আছেন। ক্রিজে হৃদয়ের অবিচল থাকা বাংলাদেশ দলকে বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি তাওহীদ হৃদয়ের সামনে

আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্ট ম্যাচে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং যেন এক রূপকথার গল্প। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা হৃদয় দলের চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নবিরতির আগেই দল ৭ উইকেটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে, যা কার্যত ৮ উইকেট হারানোর সমান। কারণ গোড়ালির চোটে পড়া সাদমান ইসলাম আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে টেলএন্ডারদের নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা আর চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে তিনি লিড নামিয়ে এনেছেন পঞ্চাশের নিচে। মধ্যাহ্নবিরতির পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যেটা করলেন তাওহীদ হৃদয়, সেটা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। কারণ গোড়ালির চোটে ছিটকে পড়া সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার প্রকৃতপক্ষে কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে টেইলেন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের কাঁধেই। মাত্র তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা হৃদয় সেই কাজটা করলেন পেশাদারদের মতোই। এর আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে রোববার প্রথম ৭ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন।

লাঞ্চের পর দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ১১৩ রান যোগ করে। এই সময়ে হৃদয় একাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের শাসন করেছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে তারা গড়েছেন ১১৭ রানের বিশাল জুটি, যা এই পজিশনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাইজুল ২২ রান করে ক্লোজ স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরলেও তাদের এই জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। দিনশেষে চা বিরতির আগ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ১৭ রান যোগ করেছেন হৃদয়। তিনি নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে আছেন। দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৮ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এখনও ৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে।

এর আগে দিনের শুরুতে প্রথম ৭ ওভারে বাংলাদেশ ৩৩ রান সংগ্রহ করলেও ছন্দপতন ঘটে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন তিনি, ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। মুশফিকের পথ ধরে একইভাবে আউট হন লিটন দাসও (৮ রান)। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে হৃদয়ের ৪১ রানের জুটি গড়ে ওঠে। তবে জাস্টিন গ্রিভসের দারুণ এক ক্যাচে প্যাডেল সুইপ খেলতে গিয়ে মিরাজ বিদায় নেন। ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চেজের বলে মিরাজ আগেভাগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মিরাজ, কিন্তু বলটি মাটিতে রাখতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি দ্রুত পাশের দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন।

দলের টেলএন্ডারদের মধ্যে বল হাতে উজ্জ্বল থাকা হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতে মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন। চা বিরতির আগে তাইজুল ইসলাম ১ রানে অপরাজিত আছেন। ক্রিজে হৃদয়ের অবিচল থাকা বাংলাদেশ দলকে বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে এসেছে।