শ্রীপুরে আলোচনা সভা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
- আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
দীর্ঘ ১৬ বছর বিরতির পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ‘ক্ষণিকা’ হলরুমে আয়োজিত সভায় ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদানের ওপর আলোকপাত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল বক্তারা দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. স্বপন মিয়া। আলোচনায় অংশ নিয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) চেয়ারম্যান এস এম মাহফুল হাসান হান্নান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য জাতীয় জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দিনটিকে মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তা হত্যার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করে।
উক্ত আয়োজনে উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহা উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়। ওই বছর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এরপর ৬ নভেম্বর রাত ও ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এবং ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যায়ন থাকলেও বিএনপি একে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
চলতি বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই দিবসটিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দিনটিকে পুনরায় জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সরকারিভাবে পালিত এই দিবসে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশেষ মোনাজাত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এই দিনটির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থারও ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবসের মর্যাদা দিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।
























