সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বড় কৌশলগত সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
সোনাদিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ১৮ মিটার গভীরতার আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিবর্তে মাতারবাড়ী বন্দরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর: ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বিষয়টিকে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর’ সঙ্গে তুলনা করে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২০০৯ সালে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাকৃতিক গভীরতা ১৮ মিটার থাকায় বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি নোঙর করার মতো আদর্শ পরিবেশ ছিল। ২০১৪ সালে চীন এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখে তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। তিনি দাবি করেন, প্রকল্প বাতিলের পেছনে পরিবেশগত কারণ, ইকোট্যুরিজম ও কচ্ছপের আবাসস্থলের দোহাই দেওয়া হলেও এর নেপথ্যে মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব ছিল।
মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে এটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না। ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির জেটি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো হিসেবে এটি গড়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সোনাদিয়া প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পর মাতারবাড়ীকে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরের চিন্তা শুরু হয়। সোনাদিয়ার ১৮ মিটার গভীরতার তুলনায় মাতারবাড়ী বন্দরের ড্রাফট মাত্র ১৩ দশমিক ৪ মিটার হওয়ায় এটি সবসময় পলি অপসারণ ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় এজেন্ডা ও বিদেশি শক্তির স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও মাতারবাড়ী বন্দর হওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক, কিন্তু সোনাদিয়ার মতো কৌশলগত সুবিধা এখানে পাওয়ার সুযোগ নেই। এই প্রকল্প থেকে সরে আসা বাংলাদেশের জন্য এক বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসিরের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক মেজর জেনারেল আমসা আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুবি আমাতুল্লাহ, ড. সিব্বির মাহমুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ।

























