ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অক্টোবরেই ফিরছে স্বাভাবিক ফ্লাইট লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সমর্থকদের নিয়ে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই

ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনে নিয়ম মানা হয়নি: অর্থমন্ত্রীকে আইডিবির চিঠি

  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 372
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আইডিবির প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি ব্যাংকটিতে যেভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি আইডিবির প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এমএইচ হাজ্জার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এর অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকে আইডিবির পাশাপাশি সৌদি আরব ও কুয়েতের ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ব্যাংকটিতে বিদেশিদের সিংহভাগ শেয়ার থাকার পরও তাদের কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিদেশি পরিচালকরা।

আইডিবির চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের পরে খুব কম সময়ের নোটিসে বোর্ড সভা ডাকা একটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে বিদেশি পরিচালকরা সভার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সভায় অংশ নিতে পারছেন না। অনেক সময় সভা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে সভার নথিপত্র দেওয়া হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারির যে সভায় পরিবর্তন আনা হয় সেই নোটিস দেওয়া হয় ২ জানুয়ারি। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওই সভায় আইডিবির প্রতিনিধি উপস্থিত হতে পারেননি। আর এ কারণেই সাম্প্রতিক পরিবর্তনে আইডিবির অবস্থান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংকের মতো নিয়ম মেনে চলা ব্যাংকের নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। সাধারণ নিয়মে দেখা যায়, এমডি নিয়োগের জন্য স্বনামধন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। পরে পর্ষদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। আর যারা আবেদন করবে তাদের সাক্ষাত্কার নিয়ে নাম সুপারিশ করা হবে। তবে সবার কাছে স্পষ্ট যে, নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সেসব নিয়ম মানা হয়নি।

আইডিবির ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি সাবেক এমডিকে অপসারণ খুব জরুরি হতো, তা হলে সাময়িক সময়ের জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করা যেত। বাছাই পর্ষদের কাছে কোনো সুপারিশ না জমা দেওয়া পর্যন্ত তিনিই থাকতেন। এক্ষেত্রে পর্ষদকে না জানিয়ে এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রচলিত নিয়ম মানা হয়নি। দেশের শীর্ষ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য এটা মানানসই হয়নি বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আইডিবি জানিয়েছে, বিদেশিদের চাপে ব্যাংকে পরিবর্তন এসেছে বলে ৯ জানুয়ারি সংবাদপত্রে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা ঠিক নয়। আইডিবিসহ সৌদি আরব ও কুয়েতের শেয়ারধারীরা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বিদেশি শেয়ারধারীদের গুরুত্ব কম দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আইডিবি প্রেসিডেন্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আইডিবির ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। এর বাইরে বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতি বিকাশে আইডিবি সহয়তা করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাংকটির সফলতার ফলে নাইজেরিয়াতে আইডিবির উদ্যোগে জায়েজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যাতে সহায়তা করেছে ইসলামী ব্যাংক। আইডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি। যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংকটি আগের মতোই আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট সুশাসন বজায় রেখে চলতে পারে। যুগান্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনে নিয়ম মানা হয়নি: অর্থমন্ত্রীকে আইডিবির চিঠি

আপডেট সময় : ১২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আইডিবির প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি ব্যাংকটিতে যেভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি আইডিবির প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এমএইচ হাজ্জার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এর অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকে আইডিবির পাশাপাশি সৌদি আরব ও কুয়েতের ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ব্যাংকটিতে বিদেশিদের সিংহভাগ শেয়ার থাকার পরও তাদের কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিদেশি পরিচালকরা।

আইডিবির চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের পরে খুব কম সময়ের নোটিসে বোর্ড সভা ডাকা একটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে বিদেশি পরিচালকরা সভার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সভায় অংশ নিতে পারছেন না। অনেক সময় সভা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে সভার নথিপত্র দেওয়া হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারির যে সভায় পরিবর্তন আনা হয় সেই নোটিস দেওয়া হয় ২ জানুয়ারি। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওই সভায় আইডিবির প্রতিনিধি উপস্থিত হতে পারেননি। আর এ কারণেই সাম্প্রতিক পরিবর্তনে আইডিবির অবস্থান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংকের মতো নিয়ম মেনে চলা ব্যাংকের নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। সাধারণ নিয়মে দেখা যায়, এমডি নিয়োগের জন্য স্বনামধন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। পরে পর্ষদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। আর যারা আবেদন করবে তাদের সাক্ষাত্কার নিয়ে নাম সুপারিশ করা হবে। তবে সবার কাছে স্পষ্ট যে, নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সেসব নিয়ম মানা হয়নি।

আইডিবির ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি সাবেক এমডিকে অপসারণ খুব জরুরি হতো, তা হলে সাময়িক সময়ের জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করা যেত। বাছাই পর্ষদের কাছে কোনো সুপারিশ না জমা দেওয়া পর্যন্ত তিনিই থাকতেন। এক্ষেত্রে পর্ষদকে না জানিয়ে এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রচলিত নিয়ম মানা হয়নি। দেশের শীর্ষ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য এটা মানানসই হয়নি বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আইডিবি জানিয়েছে, বিদেশিদের চাপে ব্যাংকে পরিবর্তন এসেছে বলে ৯ জানুয়ারি সংবাদপত্রে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা ঠিক নয়। আইডিবিসহ সৌদি আরব ও কুয়েতের শেয়ারধারীরা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বিদেশি শেয়ারধারীদের গুরুত্ব কম দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আইডিবি প্রেসিডেন্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আইডিবির ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। এর বাইরে বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতি বিকাশে আইডিবি সহয়তা করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাংকটির সফলতার ফলে নাইজেরিয়াতে আইডিবির উদ্যোগে জায়েজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যাতে সহায়তা করেছে ইসলামী ব্যাংক। আইডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি। যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংকটি আগের মতোই আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট সুশাসন বজায় রেখে চলতে পারে। যুগান্তর।