ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ

আদানির বিরুদ্ধে এবার সমন জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
  • / 154
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সরকারি কর্মকর্তাদের কয়েক মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়া ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের তথ্য গোপনের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এসইসি সৌরবিদ্যুতের চুক্তি সুরক্ষিত করতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আদানি গ্রুপের দুই নির্বাহী গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানির নামে এ সমন জারি করে ২১ দিনের মধ্যে এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

নিউইয়র্ক ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের মাধ্যমে পাঠানো সমনে সতর্ক করা হয়েছে যে যে সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডিফল্ট রায় দেওয়া হতে পারে। এসইসি অভিযোগসমূহ মার্কিন বিচার বিভাগের আনা অভিযোগগুলো থেকে আলাদা। তবে উভয় অভিযোগই একই বৃহৎ ঘুষ কেলেঙ্করির সঙ্গে যুক্ত।

মার্কিন বিচার বিভাগ এর আগে গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে আদানি গ্রুপ মার্কিন আদালতের এ ফৌজদারি অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

মার্কিন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, গৌতম ও তার ভাতিজা সাগর আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিতে রাজি হন। আদানির কথিত সহযোগীদের একজন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তার ফোন ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের দেওয়া এই ঘুষের পেমেন্ট ট্র্যাক করেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদানি ও তার ভাতিজা সাগরসহ সাত আসামি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ পেতে ২ বিলিয়ন ডলার লাভের আশায় চুক্তি সুরক্ষিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে সম্মত হন।

অপরদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও গৌতম আদানিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন আদালতে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা উচিত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নরেন্দ্র মোদি আদানিকে তদন্তের হাত থেকে রক্ষা করছেন উল্লেখ করে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদি ও আদানি একসঙ্গে থাকলে তারা সুরক্ষিত। ভারতে আদানিকে কিছুই করা যাবে না। এ দেশে মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে পাঠানো হয় আর আদানি ২০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদি তাদের রক্ষা করছেন। আদানি ভারত ও আমেরিকায় অপরাধ করেছে। কিন্তু ভারতে আদানির বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ২০২৩ সালে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে স্টক ম্যানিপুলেশন এবং জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর মি. আদানি নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় প্রায় দুই বছর ব্যয় করেন।

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা ওই অভিযোগ মি. আদানি অস্বীকার করেছেন। তবে সেই অভিযোগের কারণে মার্কেট সেল-অফ (মার্কেট সেল-অফ হলো বৃহৎ পরিমাণ সিকিউরিটিজের দ্রুত বিক্রয়, যার ফলে তার দাম কমে যায়) হয়েছে এবং সে বিষয়ে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) তদন্তও করছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আদানির বিরুদ্ধে এবার সমন জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সরকারি কর্মকর্তাদের কয়েক মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়া ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের তথ্য গোপনের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এসইসি সৌরবিদ্যুতের চুক্তি সুরক্ষিত করতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আদানি গ্রুপের দুই নির্বাহী গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানির নামে এ সমন জারি করে ২১ দিনের মধ্যে এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

নিউইয়র্ক ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের মাধ্যমে পাঠানো সমনে সতর্ক করা হয়েছে যে যে সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডিফল্ট রায় দেওয়া হতে পারে। এসইসি অভিযোগসমূহ মার্কিন বিচার বিভাগের আনা অভিযোগগুলো থেকে আলাদা। তবে উভয় অভিযোগই একই বৃহৎ ঘুষ কেলেঙ্করির সঙ্গে যুক্ত।

মার্কিন বিচার বিভাগ এর আগে গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে আদানি গ্রুপ মার্কিন আদালতের এ ফৌজদারি অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

মার্কিন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, গৌতম ও তার ভাতিজা সাগর আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিতে রাজি হন। আদানির কথিত সহযোগীদের একজন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তার ফোন ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের দেওয়া এই ঘুষের পেমেন্ট ট্র্যাক করেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদানি ও তার ভাতিজা সাগরসহ সাত আসামি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ পেতে ২ বিলিয়ন ডলার লাভের আশায় চুক্তি সুরক্ষিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে সম্মত হন।

অপরদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও গৌতম আদানিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন আদালতে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা উচিত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নরেন্দ্র মোদি আদানিকে তদন্তের হাত থেকে রক্ষা করছেন উল্লেখ করে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদি ও আদানি একসঙ্গে থাকলে তারা সুরক্ষিত। ভারতে আদানিকে কিছুই করা যাবে না। এ দেশে মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে পাঠানো হয় আর আদানি ২০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদি তাদের রক্ষা করছেন। আদানি ভারত ও আমেরিকায় অপরাধ করেছে। কিন্তু ভারতে আদানির বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ২০২৩ সালে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে স্টক ম্যানিপুলেশন এবং জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর মি. আদানি নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় প্রায় দুই বছর ব্যয় করেন।

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা ওই অভিযোগ মি. আদানি অস্বীকার করেছেন। তবে সেই অভিযোগের কারণে মার্কেট সেল-অফ (মার্কেট সেল-অফ হলো বৃহৎ পরিমাণ সিকিউরিটিজের দ্রুত বিক্রয়, যার ফলে তার দাম কমে যায়) হয়েছে এবং সে বিষয়ে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) তদন্তও করছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস