আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান। তার সঙ্গে কালো পোশাকধারী অন্তত ১০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন। শুনানির আগে কিছু সময় তিনি গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।
আদালতে প্রবেশের সময় উৎসুক জনতা ও সংবাদকর্মীদের ভিড় তৈরি হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার। তাদের মধ্যে আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। আহত আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেন দাবি করেছেন, পরীমনি নিজেই তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন। আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেনের অভিযোগ, পরীমনি তার হাতে খামচি দিয়েছেন। জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে পরীমনিকে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ এনে গালিগালাজ করতে শোনা যায়। এসময় তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘সাংবাদিকরাও মেয়েদের গায়ে হাত দেয়, কত বড় সাহস।’ এ ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের নীরব থাকতে দেখা গেছে বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।
আদালত চত্বরে এসময় অন্য এক বিচারপ্রার্থীকেও মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তির বড় ভাই জানিয়েছেন, চিকিৎসা শেষ করে পরে এ বিষয়ে জানানো হবে। মামলার জামিন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আদালত চত্বরে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
























