ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হুতিদের হামলায় অচল রিয়াদ বিমানবন্দর, বাতিল শত শত ফ্লাইট মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নজরুলের দর্শনের ওপর জোর এস এম বেঙ্গালুরুতে ‘ভোট সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়’র অভিযোগে সিজেপির বিক্ষোভে সরব শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও অব্যবস্থাপনা: উত্তরণের পথ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেসির বিদায়ে নতুন চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য মতিঝিলের বাংলার বাণী ভবন এখন প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীদের দখলে সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন ঢাকার গণপরিবহণ ও সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আকাশপথের ভাড়া বাড়ছে

উচ্চ কর, জ্বালানি ব্যয় ও রানওয়ে জটে আকাশপথে বাড়ছে টিকিটের দাম

  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 29
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অতিরিক্ত সরকারি কর, জ্বালানির চড়া দাম, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েতে সৃষ্ট যানজটের কারণে দেশের এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এই বাড়তি আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের বহন করতে হচ্ছে টিকিটের বর্ধিত মূল্যের মাধ্যমে। শনিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এসব কথা জানান।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী যাত্রীদের টিকিটে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা কর ও আবগারি শুল্ক দিতে হয়, অথচ ফিরতি পথে তা মাত্র ২ হাজার টাকার কাছাকাছি। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা কর দিতে হলেও ফেরার পথে তা ৫ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে আসে। এছাড়া ঢাকা-মাসকাট রুটে যাত্রীরা প্রায় ১০ হাজার টাকা কর দিলেও ফেরার পথে তা ৩ হাজার টাকা। এমনকি দুবাইয়ের ক্ষেত্রেও আকাশপথের এই খরচের পার্থক্য ১০ হাজার বনাম ৪ হাজার টাকা। অভ্যন্তরীণ রুটের অবস্থাও একই; ঢাকা থেকে যশোরগামী যাত্রীকে টিকিটের সাথে ৫০০ টাকা ভ্যাট ও ২০০ টাকা করসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়।

জ্বালানি ব্যয় ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান মামুন। তার মতে, বাংলাদেশে বিমানের জ্বালানির দাম কলকাতার তুলনায় বেশি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান; যেখানে কুয়ালালামপুরে ইউএস-বাংলার খরচ প্রায় ৯৭ হাজার টাকা, সেখানে ঢাকায় বিদেশি এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে এই সেবামূল্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। রানওয়ের যানজটের ফলে উড়োজাহাজগুলোকে ট্যাক্সিওয়েতে দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বোয়িং উড়োজাহাজে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি, এয়ারবাসে ৯০০ কেজি এবং এটিআর বিমানে ৭৫ কেজি পর্যন্ত জ্বালানি অহেতুক পুড়ে যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসকে।

বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সদস্য এয়ার কমোডর নুর-ই-আলম জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ঘণ্টায় ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব। তবে দ্রুত হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে চালু করতে পারলে তা ২৬ থেকে ২৮টিতে উন্নীত হবে এবং দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। অন্যদিকে, বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করার আগে খাতসংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ দুই দিকের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশীয় রুটেও কর ও বিভিন্ন চার্জের চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

উচ্চ কর, জ্বালানি ব্যয় ও রানওয়ে জটে আকাশপথে বাড়ছে টিকিটের দাম

আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অতিরিক্ত সরকারি কর, জ্বালানির চড়া দাম, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েতে সৃষ্ট যানজটের কারণে দেশের এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এই বাড়তি আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের বহন করতে হচ্ছে টিকিটের বর্ধিত মূল্যের মাধ্যমে। শনিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এসব কথা জানান।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী যাত্রীদের টিকিটে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা কর ও আবগারি শুল্ক দিতে হয়, অথচ ফিরতি পথে তা মাত্র ২ হাজার টাকার কাছাকাছি। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা কর দিতে হলেও ফেরার পথে তা ৫ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে আসে। এছাড়া ঢাকা-মাসকাট রুটে যাত্রীরা প্রায় ১০ হাজার টাকা কর দিলেও ফেরার পথে তা ৩ হাজার টাকা। এমনকি দুবাইয়ের ক্ষেত্রেও আকাশপথের এই খরচের পার্থক্য ১০ হাজার বনাম ৪ হাজার টাকা। অভ্যন্তরীণ রুটের অবস্থাও একই; ঢাকা থেকে যশোরগামী যাত্রীকে টিকিটের সাথে ৫০০ টাকা ভ্যাট ও ২০০ টাকা করসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়।

জ্বালানি ব্যয় ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান মামুন। তার মতে, বাংলাদেশে বিমানের জ্বালানির দাম কলকাতার তুলনায় বেশি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান; যেখানে কুয়ালালামপুরে ইউএস-বাংলার খরচ প্রায় ৯৭ হাজার টাকা, সেখানে ঢাকায় বিদেশি এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে এই সেবামূল্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। রানওয়ের যানজটের ফলে উড়োজাহাজগুলোকে ট্যাক্সিওয়েতে দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বোয়িং উড়োজাহাজে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি, এয়ারবাসে ৯০০ কেজি এবং এটিআর বিমানে ৭৫ কেজি পর্যন্ত জ্বালানি অহেতুক পুড়ে যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসকে।

বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সদস্য এয়ার কমোডর নুর-ই-আলম জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ঘণ্টায় ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব। তবে দ্রুত হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে চালু করতে পারলে তা ২৬ থেকে ২৮টিতে উন্নীত হবে এবং দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। অন্যদিকে, বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করার আগে খাতসংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ দুই দিকের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশীয় রুটেও কর ও বিভিন্ন চার্জের চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।