ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

বহুমুখী সংকটের মধ্যেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ : নাহিদ

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 107
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং একটি সদা বিকশিত রাজনৈতিক পরিবেশসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে বাসসকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্থিতিশীলতা ও ঐক্য বজায় রাখা এবং চাপ মোকাবেলায় নিরন্তর প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সর্বদা বিকশিত জাতীয় দৃশ্যপটের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারি নাহিদ বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে দেশের জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে এমন একটি ভবিষ্যত গঠনে অবিচল রয়েছি।’

উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পথচলা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা, শতাধিক আন্দোলন পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ক্রমাগত রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হওয়াসহ বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে গত বছরের ৮ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ছয় মাস বয়সী সরকার জাতি যে পরিবর্তন চেয়েছিল তা অর্জন করতে পারবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসাবেও দায়িত্ব পালনকারি নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনের রাস্তাটি এত মসৃণ হবে না, তবে সঠিক সমর্থনসহ অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন্য আরও স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপনের আশা করে ।

নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের ওপর দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা রাখায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সরকার পরিচালনায় জনসাধারণের উদ্বেগের প্রধান ক্ষেত্র।

সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা যখন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বিশৃঙ্খলা ছিল। আমলাতন্ত্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল এবং আমাদেরকে সেখান থেকে তাদের পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। এটা সহজ কাজ ছিল না।”

নাহিদ বলেন, ‘আগের প্রশাসনের চর্চা, বিশেষ করে ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করেছিল যা রাতারাতি দূর করা যাবে না।’

রাজনৈতিক বিষয়ে নাহিদ গণঅভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে যে বিভেদ দেখা দিয়েছে সেসব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন ‘যদিও অভ্যুত্থান সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একত্রিত করেছিল, তবে অনেকেই জাতীয় কল্যাণের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থের পিছনে ছুটতে শুরু করেছিল।’

হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই বিভক্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ঐক্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, একসময় যে ঐক্য ছিল তা ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই সংহতির অভাব সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাই হোক, নাহিদ আশাবাদী যে এই বিভাজনগুলি অপ্রতিরোধ্য নয়। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে ঐক্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। আমরা মতবিরোধ নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং অতীতের বিভাজনমূলক অভ্যাসগুলিতে ফিরে আসা এড়াচ্ছি।”

উপদেষ্টা বলেন, অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের সাফল্যের মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষমতার প্রকৃত পরীক্ষা আসবে। তিনি বলেন “আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংস্কারের ইস্যুতে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। আগামী মাসগুলি দেখাবে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।”

নাহিদ জোর দিয়ে বলেন, যে কোনও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল এবং জনগণ উভয়ই পদ্ধতিগত সমস্যাগুলি দূর করতে একসাথে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন কিছু উপাদান আছে যারা এখনও চাঁদাবাজিতে জড়িত এবং কিছু ব্যক্তি যারা গণজাগরণে অংশ নিয়েছিল তারা এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। সহযোগিতা ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হবে।

সংস্কার বনাম নির্বাচনের ইস্যুটিও একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে বিএনপি আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে বলে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সরকার সংস্কার এবং নির্বাচনকে পারস্পরিক একচেটিয়া হিসাবে দেখে না বরং পরিপূরক উদ্দেশ্য হিসাবে দেখে।

তিনি বলেন “সংস্কার কমিশন নির্বাচনী ও শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নির্বাচনের আগে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে… অন্যথায় অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে” ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার স্বাধীনভাবে তার নীতির সমালোচনা করার গণমাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি। নাহিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের সমালোচনা করার জন্য গণমাধ্যমের ওপর কোনো চাপ দেয়া হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার যখন মুক্ত গণমাধ্যমের ধারণাকে সমর্থন করে, তখন এটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করার সময় সতর্ক হতে বলেছে।

নাহিদ স্বীকার করেছেন যে কিছু মিডিয়া আউটলেট সামাজিক চাপ এবং প্রতিবাদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্তক্ষেপ করেছে।

এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নাহিদ অবাধ ও মুক্ত গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন “সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে উৎসাহিত করে এবং ইতোমধ্যে মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই এবং আমরা আমাদের নীতিতে সামঞ্জস্য বজায় রাখব।”
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বহুমুখী সংকটের মধ্যেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ : নাহিদ

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং একটি সদা বিকশিত রাজনৈতিক পরিবেশসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে বাসসকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্থিতিশীলতা ও ঐক্য বজায় রাখা এবং চাপ মোকাবেলায় নিরন্তর প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সর্বদা বিকশিত জাতীয় দৃশ্যপটের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারি নাহিদ বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে দেশের জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে এমন একটি ভবিষ্যত গঠনে অবিচল রয়েছি।’

উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পথচলা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা, শতাধিক আন্দোলন পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ক্রমাগত রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হওয়াসহ বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে গত বছরের ৮ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ছয় মাস বয়সী সরকার জাতি যে পরিবর্তন চেয়েছিল তা অর্জন করতে পারবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসাবেও দায়িত্ব পালনকারি নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনের রাস্তাটি এত মসৃণ হবে না, তবে সঠিক সমর্থনসহ অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন্য আরও স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপনের আশা করে ।

নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের ওপর দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা রাখায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সরকার পরিচালনায় জনসাধারণের উদ্বেগের প্রধান ক্ষেত্র।

সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা যখন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বিশৃঙ্খলা ছিল। আমলাতন্ত্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল এবং আমাদেরকে সেখান থেকে তাদের পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। এটা সহজ কাজ ছিল না।”

নাহিদ বলেন, ‘আগের প্রশাসনের চর্চা, বিশেষ করে ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করেছিল যা রাতারাতি দূর করা যাবে না।’

রাজনৈতিক বিষয়ে নাহিদ গণঅভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে যে বিভেদ দেখা দিয়েছে সেসব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন ‘যদিও অভ্যুত্থান সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একত্রিত করেছিল, তবে অনেকেই জাতীয় কল্যাণের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থের পিছনে ছুটতে শুরু করেছিল।’

হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই বিভক্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ঐক্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, একসময় যে ঐক্য ছিল তা ক্ষীণ হয়ে গেছে। এই সংহতির অভাব সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাই হোক, নাহিদ আশাবাদী যে এই বিভাজনগুলি অপ্রতিরোধ্য নয়। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে ঐক্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। আমরা মতবিরোধ নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং অতীতের বিভাজনমূলক অভ্যাসগুলিতে ফিরে আসা এড়াচ্ছি।”

উপদেষ্টা বলেন, অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের সাফল্যের মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষমতার প্রকৃত পরীক্ষা আসবে। তিনি বলেন “আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংস্কারের ইস্যুতে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। আগামী মাসগুলি দেখাবে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।”

নাহিদ জোর দিয়ে বলেন, যে কোনও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল এবং জনগণ উভয়ই পদ্ধতিগত সমস্যাগুলি দূর করতে একসাথে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন কিছু উপাদান আছে যারা এখনও চাঁদাবাজিতে জড়িত এবং কিছু ব্যক্তি যারা গণজাগরণে অংশ নিয়েছিল তারা এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। সহযোগিতা ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হবে।

সংস্কার বনাম নির্বাচনের ইস্যুটিও একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে বিএনপি আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে বলে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সরকার সংস্কার এবং নির্বাচনকে পারস্পরিক একচেটিয়া হিসাবে দেখে না বরং পরিপূরক উদ্দেশ্য হিসাবে দেখে।

তিনি বলেন “সংস্কার কমিশন নির্বাচনী ও শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নির্বাচনের আগে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে… অন্যথায় অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে” ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার স্বাধীনভাবে তার নীতির সমালোচনা করার গণমাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি। নাহিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের সমালোচনা করার জন্য গণমাধ্যমের ওপর কোনো চাপ দেয়া হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার যখন মুক্ত গণমাধ্যমের ধারণাকে সমর্থন করে, তখন এটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করার সময় সতর্ক হতে বলেছে।

নাহিদ স্বীকার করেছেন যে কিছু মিডিয়া আউটলেট সামাজিক চাপ এবং প্রতিবাদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্তক্ষেপ করেছে।

এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নাহিদ অবাধ ও মুক্ত গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন “সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে উৎসাহিত করে এবং ইতোমধ্যে মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই এবং আমরা আমাদের নীতিতে সামঞ্জস্য বজায় রাখব।”
বিডিসংবাদ/এএইচএস