বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান একদিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৩ অক্টোবর) মামলার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১ অক্টোবর, যখন মদিনা থেকে আসা জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি ও তাদের পরিবার ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে সেই সময়ে ট্রলি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন ও হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং একজনকে শারীরিক আঘাত করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধনের অভিযোগও রয়েছে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
আদালতে হাজির করার আগে পুলিশের প্রিজনভ্যানে থাকা অবস্থায় আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের দাবি করেন, নির্যাতন করে তাদের আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। তিনি প্রবাসীদের স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। পুলিশ সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে মাথায় হেলমেট পরানোর চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় তিনি হেলমেটটি ছুড়ে ফেলে দেন এবং সরকারের অবৈধ আদেশ মানবেন না বলে উচ্চকণ্ঠ হন। শেষ পর্যন্ত হেলমেট ছাড়াই তাকে আদালতে নেওয়া হয় এবং সে সময় তিনি বিভিন্ন স্লোগান দেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি নতুন করে সংগ্রামে নামার কথা জানান।
আদালতের শুনানিতে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক মামলাটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর আদালত পাঁচ দিনের আবেদনের বিপরীতে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।























