ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাইলে প্রস্তুত, হুশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম আপা আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত: নাহিদ ইসলাম গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামাতে চাইছে বিদেশের অপশক্তি: রুহুল কবির রিজভী মুম্বাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট সূচি থেকে বাদ পশ্চিম এশিয়ার ১২ এয়ারলাইনস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের ৭ বাংলাদেশি নিহত

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 31
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসা- বান্ধব একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিনটায় চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পোর্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসেছি। প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বন্দর ও কাস্টমস যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে কাজ করার এই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সাহসের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।

কাস্টমস ও পোর্টের অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো অনৈতিক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ পণ্য খালাসের জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ ও আটকে থাকা পণ্যেও জট তৈরি হয়েছে। বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক কনটেইনার আটকে থাকার সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। কাস্টমস চত্বরকে এসব জট থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খালাস বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। এতে কারও জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার বা পৃষ্ঠপোষণমূলক ব্যবস্থার স্থান থাকবে না।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এডিবি চট্টগ্রামকে কেবল লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ নিয়ে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে চট্টগ্রামে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসা- বান্ধব একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিনটায় চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পোর্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসেছি। প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কত সময়ের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বন্দর ও কাস্টমস যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে কাজ করার এই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সাহসের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।

কাস্টমস ও পোর্টের অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো অনৈতিক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ পণ্য খালাসের জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ ও আটকে থাকা পণ্যেও জট তৈরি হয়েছে। বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক কনটেইনার আটকে থাকার সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। কাস্টমস চত্বরকে এসব জট থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খালাস বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। এতে কারও জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার বা পৃষ্ঠপোষণমূলক ব্যবস্থার স্থান থাকবে না।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এডিবি চট্টগ্রামকে কেবল লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ নিয়ে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে চট্টগ্রামে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস