ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা বরদাস্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের চার শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানতে ইসলামবিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় ট্রাম্পের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল ‘মুরাসু’, বন্দরে ২ নম্বর সংকেত গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ: মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি, মাঠে ২১ ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম বর্ষপূর্তিতে সান ফুকুওক এয়ারওয়েজের বড় মাইলফলক এনসিএলে মেহরবের সেঞ্চুরি ও আরাফাতের ৬ উইকেটের সাফল্য বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি খুলনায় বকেয়া নিয়ে বিরোধে তাঁতী দল নেতাকে হামলা ও মৃত্যু শাহজালাল বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামিন পেলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানতে ইসলামবিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় ট্রাম্পের

  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ভোটারদের চাঙা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পথ বেছে নিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছরের মেয়াদে কংগ্রেসে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা মূলত এই ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।

রোববার আইওয়া ও কানসাসে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে নিয়ে তিনি একাধিকবার বিরূপ মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিহীন দাবিও পুনরাবৃত্তি করেন। তবে এই গুরুতর দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের হাসির রেশ ধরে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে সাইয়েদকে সিনেটে প্রবেশের আগে বিশেষ ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত। সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের হাসির মধ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ১০০ জন সিনেটর থাকবেন। তাদের বেশির ভাগই সরাসরি সিনেটে প্রবেশ করবেন।

তার ভাষ্যমতে, শতাধিক সিনেট সদস্যের মধ্যে সাইয়েদের প্রবেশপথেই এই বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই নির্বাচনে ভোটাররা যেন মনে করেন ব্যালট পেপারে তারই নাম রয়েছে। জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মূলত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতেই তিনি এমন মরিয়া কৌশল নিয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভাবুন, ব্যালটে আমার নাম আছে।’।

নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের এটিই ছিল শেষ সফরভিত্তিক প্রচারণা। গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার পর নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত এই দুটি সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখেও পড়তে হয় তাকে। আইওয়ার সমাবেশে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনস দল পরিবর্তন করে রিপাবলিকানে যোগ দিলে তিনি খুশি হবেন। জানা গেছে, স্টিভেনস প্রাথমিক নির্বাচনে সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন। পরে হঠাৎ করেই সেগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকেও ব্যক্তিগত আক্রমণে ছাড়েননি ট্রাম্প। কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, ওমর অতীতে নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। অন্যদিকে কানসাসের সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী ও চার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনকে ‘নির্বিকার’ উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের পক্ষে থাকায় তার সমালোচনা করার পাশাপাশি ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, হ্যামিলটন টেলিপ্রম্পটার দেখে ধর্মীয় বক্তব্য পাঠ করেন।

দুই সমাবেশেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন সমস্যা, সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, আইওয়া ও কানসাসের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বর্তমানে রিপাবলিকান দলের। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেন। কানসাসের পাঁচটি ফেডারেল কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে একটি সিনেট এবং চারটি প্রতিনিধি পরিষদের আসন রয়েছে। ১৯৩২ সালের পর থেকে এই অঙ্গরাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এছাড়া আইওয়ার সিনেট আসনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসনে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট টানতে ইসলামবিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১১:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ভোটারদের চাঙা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পথ বেছে নিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছরের মেয়াদে কংগ্রেসে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা মূলত এই ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।

রোববার আইওয়া ও কানসাসে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে নিয়ে তিনি একাধিকবার বিরূপ মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিহীন দাবিও পুনরাবৃত্তি করেন। তবে এই গুরুতর দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের হাসির রেশ ধরে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে সাইয়েদকে সিনেটে প্রবেশের আগে বিশেষ ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত। সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের হাসির মধ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ১০০ জন সিনেটর থাকবেন। তাদের বেশির ভাগই সরাসরি সিনেটে প্রবেশ করবেন।

তার ভাষ্যমতে, শতাধিক সিনেট সদস্যের মধ্যে সাইয়েদের প্রবেশপথেই এই বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই নির্বাচনে ভোটাররা যেন মনে করেন ব্যালট পেপারে তারই নাম রয়েছে। জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মূলত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতেই তিনি এমন মরিয়া কৌশল নিয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভাবুন, ব্যালটে আমার নাম আছে।’।

নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের এটিই ছিল শেষ সফরভিত্তিক প্রচারণা। গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার পর নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত এই দুটি সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখেও পড়তে হয় তাকে। আইওয়ার সমাবেশে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনস দল পরিবর্তন করে রিপাবলিকানে যোগ দিলে তিনি খুশি হবেন। জানা গেছে, স্টিভেনস প্রাথমিক নির্বাচনে সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন। পরে হঠাৎ করেই সেগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকেও ব্যক্তিগত আক্রমণে ছাড়েননি ট্রাম্প। কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, ওমর অতীতে নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। অন্যদিকে কানসাসের সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী ও চার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনকে ‘নির্বিকার’ উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের পক্ষে থাকায় তার সমালোচনা করার পাশাপাশি ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, হ্যামিলটন টেলিপ্রম্পটার দেখে ধর্মীয় বক্তব্য পাঠ করেন।

দুই সমাবেশেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন সমস্যা, সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, আইওয়া ও কানসাসের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বর্তমানে রিপাবলিকান দলের। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেন। কানসাসের পাঁচটি ফেডারেল কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে একটি সিনেট এবং চারটি প্রতিনিধি পরিষদের আসন রয়েছে। ১৯৩২ সালের পর থেকে এই অঙ্গরাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এছাড়া আইওয়ার সিনেট আসনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসনে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।