ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার: কারণ অজ্ঞাত

  • আপডেট সময় : ১০:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অজ্ঞাত এক নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর সব দূরপাল্লার বোমারু বিমান নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা এই বিমানগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ঠিক কী ধরণের হুমকির কারণে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সাধারণত এ ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বোমারু বিমানগুলোকে ওই একই অঞ্চলের অন্য কোনো নিরাপদ ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়ে থাকে। তবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কেন্দ্র, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন অভিযানে বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে চলমান একটি কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের প্রেক্ষাপটে ঘটল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ। তারা সবাই লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। যদিও তল্লাশিতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি এবং তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবুও তারা বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এই জামিন প্রদানের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তেহরান এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট এই উদ্বেগ এবং মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান ঘটনাটিতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার: কারণ অজ্ঞাত

আপডেট সময় : ১০:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অজ্ঞাত এক নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর সব দূরপাল্লার বোমারু বিমান নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা এই বিমানগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ঠিক কী ধরণের হুমকির কারণে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সাধারণত এ ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বোমারু বিমানগুলোকে ওই একই অঞ্চলের অন্য কোনো নিরাপদ ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়ে থাকে। তবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কেন্দ্র, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন অভিযানে বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে চলমান একটি কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের প্রেক্ষাপটে ঘটল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ। তারা সবাই লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। যদিও তল্লাশিতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি এবং তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবুও তারা বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এই জামিন প্রদানের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তেহরান এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট এই উদ্বেগ এবং মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান ঘটনাটিতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।