ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 127
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘যদি তাদের অপরাধের বিচার না করা হয়, তাহলে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমা করবে না।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেছেন। দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের (ডব্লিউজিএস) এক ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা তাকে (হাসিনা) বিচারের আওতায় আনবো। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আইনের মুখোমুখি করা হবে।’

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশত্যাগ করেন। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান হয়। এরপর গতবছর ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুলিশ ও শেখ হাসিনার দলের লোকজন প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করে এবং আহত হয় ১১ হাজার।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতকে নোটিশ :

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকার ওই সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার বিপুল পরিমাণ প্রমাণ আছে। যার মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টও অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘ এটিকে নথিভুক্ত করেছে এবং আমাদের কাছে শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের অপরাধের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আশা করছি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ছাত্র আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন :

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুক্তি ও আমিরাতের সাথে সম্পর্ক :

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

আন্দোলনের সময় আমিরাতে ৫৩ জন বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের কাছে অনুরোধ জানালে পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকাকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমিরাতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। যখন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলাম, তখন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করি। আমি তাকে ব্যাখ্যা করি যে, তারা শুধু বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ করেছি যে, তিনি যেন তাদের ক্ষমা করে মুক্তি দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা করায় আমি অত্যন্ত খুশি হই। এটি একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ সেটি উদযাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, কারণ সেখানে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু :

বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ দৃষ্টি এখন সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি।

এই লক্ষ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চুরি ও পাচার হওয়া সরকারি তহবিল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ যেন প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাবান হন।

জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি :

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতিকে সচল করা। আমরা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনা করছি—কোন সংস্কার এখন বাস্তবায়ন করা হবে, কোনটি ভবিষ্যতে হবে এবং কোন সংস্কার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করতে চান না।’

তিনি বলেছেন, ‘এটাই আমাদের সরকারের কাজের সীমা। এরপর আমরা ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করবো। জনগণ এটিকে উদযাপন করবে এবং আমাদের কাজ শেষ হবে।’

দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমাদের ঐকমত্য কমিশন একটি জাতীয় রূপরেখা প্রস্তুত করছে। বলা যায় আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এগুচ্ছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘আমার কাজ শেষ হলে, আমি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।’

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘যদি তাদের অপরাধের বিচার না করা হয়, তাহলে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমা করবে না।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেছেন। দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের (ডব্লিউজিএস) এক ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা তাকে (হাসিনা) বিচারের আওতায় আনবো। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আইনের মুখোমুখি করা হবে।’

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশত্যাগ করেন। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান হয়। এরপর গতবছর ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুলিশ ও শেখ হাসিনার দলের লোকজন প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করে এবং আহত হয় ১১ হাজার।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতকে নোটিশ :

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকার ওই সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার বিপুল পরিমাণ প্রমাণ আছে। যার মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টও অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘ এটিকে নথিভুক্ত করেছে এবং আমাদের কাছে শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের অপরাধের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আশা করছি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ছাত্র আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন :

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুক্তি ও আমিরাতের সাথে সম্পর্ক :

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

আন্দোলনের সময় আমিরাতে ৫৩ জন বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের কাছে অনুরোধ জানালে পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকাকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমিরাতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। যখন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলাম, তখন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করি। আমি তাকে ব্যাখ্যা করি যে, তারা শুধু বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ করেছি যে, তিনি যেন তাদের ক্ষমা করে মুক্তি দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা করায় আমি অত্যন্ত খুশি হই। এটি একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ সেটি উদযাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, কারণ সেখানে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু :

বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ দৃষ্টি এখন সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি।

এই লক্ষ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চুরি ও পাচার হওয়া সরকারি তহবিল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ যেন প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাবান হন।

জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি :

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতিকে সচল করা। আমরা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনা করছি—কোন সংস্কার এখন বাস্তবায়ন করা হবে, কোনটি ভবিষ্যতে হবে এবং কোন সংস্কার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করতে চান না।’

তিনি বলেছেন, ‘এটাই আমাদের সরকারের কাজের সীমা। এরপর আমরা ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করবো। জনগণ এটিকে উদযাপন করবে এবং আমাদের কাজ শেষ হবে।’

দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমাদের ঐকমত্য কমিশন একটি জাতীয় রূপরেখা প্রস্তুত করছে। বলা যায় আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এগুচ্ছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘আমার কাজ শেষ হলে, আমি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।’

বিডিসংবাদ/এএইচএস