ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার মৃত্যু পাবনায় ইয়াবা-গাঁজাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: তদন্তে মাঠে পুলিশ স্পেনের কাছে হুরজেট বিক্রির সংখ্যা বাড়াচ্ছে তুরস্ক মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন পোস্ট দিলেন অভিনেতা অপূর্ব লেবাননে বিস্ফোরকবাহী ট্রাক জব্দ, কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কামচাতকায় ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি

ব্যালন ডি’অরও বেনজেমার

  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২
  • / 216
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বেশিরভাগ ফুটবল প্রেমীদের অনুমান ছিল যা, সেটিই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে ধরা দিলো। গত মৌসুমে জাদুকরী পারফরম্যান্সের আরেকটি স্বীকৃতি পেলেন করিম বেনজেমা। ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। প্রথমবারের মতো বর্ষসেরার এই পুরস্কার পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

প্যারিসে সোমবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানে বেনজেমার হাতে তুলে দেয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পুরস্কার, ব্যালন ডি’অর ২০২২।

আর দুই যুগ পর ব্যালন ডি’অর জিতলেন ফ্রান্সের কোনো ফুটবলার। বেনজেমার আগে সবশেষ ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন জিনেদিন জিদান। সেই স্বদেশী কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেন বেনজামা।

দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাতটি ব্যালন ডি’অর নিয়ে আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও জার্মানির পাশে বসল ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার হয়ে সবগুলোই জেতেন মেসি, ব্যক্তিগতভাবে যা সর্বোচ্চ।

গত বছর সপ্তমবার জেতা মেসি এবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ই ছিলেন না, ২০০৫ সালের পর যা প্রথম। তালিকায় ২০তম স্থানে আছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৭ বছরের মধ্যে যা তার সর্বনিম্ন।

ব্যালন ডি’অরের জন্য আগে পুরো বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হলেও গত মার্চে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এই বছর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের পুরো একটি মৌসুমের সময়কে (অগাস্ট-জুলাই)।

গত মৌসুমে বেনজেমার যা পারফরম্যান্স ও অর্জন, তাতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সবচেয়ে ফেভারিট ছিলেন তিনিই।

২০২১-২২ মৌসুমে রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল বেনজেমার। ১৫ গোল করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১০টিই করেন নকআউট পর্বে। একের পর এক ম্যাচে রিয়ালের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক তিনি।

বিশেষ করে শেষ-১৬ ও কোয়ার্টার-ফাইনালে ফরাসি তারকার হ্যাটট্রিকেই পিএসজি ও চেলসিকে বিদায় করে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেমি-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটিও তারই করা।

গতবার রিয়ালের লা লিগা জয়েও বড় অবদান রেখে বেনজেমা করেন আসরের সর্বোচ্চ ২৭ গোল। এছাড়া ক্লাবের স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথে তিনি গোলের দেখা পান সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে। মাদ্রিদের দলটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে করেন ৪৪ গোল।

পুরস্কারটির বিবেচিত সময়ে জাতীয় দলেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেন বেনজেমা। গত বছরের অক্টোবরে ফ্রান্সের নেশন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। চার দলের ফাইনালসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন একটি করে। তাই পুরস্কারটি যে তার হাতেই উঠতে যাচ্ছে আগেই অনুমান করে রেখেছিল ফুটবল প্রেমীরা। কারন দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স— কোনো নিরিখেই বেনজেমাকে বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

এমন আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সের সুবাদে গত অগাস্টে প্রথমবারের মতো উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান বেনজেমা। এবার পেয়ে গেলেন আরো বড় স্বীকৃতি, ব্যালন ডি’অর!

‘ব্যালন ডি’অর-২০২২’-এর তালিতায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সাদিও মানে ও কেভিন ডি ব্রুইনা।

১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে কেবল ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেয়া শুরু হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে।

ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সাথে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।

কে কোন পুরস্কার জিতছেন

বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় : করিম বেনজেমা

বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড় : অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস

বর্ষসেরা ক্লাব : ম্যানচেস্টার সিটি

লেভ ইয়েশিন ট্রফি (সেরা গোলরক্ষক) : থিবো কোর্তোয়া

জার্ড ‍মুলার ট্রফি (সেরা স্ট্রাইকার) : রবার্ট লেভানডফস্কি

সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড (দাতব্য কাজে সম্পৃক্ততা) : সাদিও মানে

কোপা ট্রফি (অনূর্ধ্ব ২১ বছর বয়সী সেরা খেলোয়াড়) : পাবলো গাভি।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্যালন ডি’অরও বেনজেমার

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বেশিরভাগ ফুটবল প্রেমীদের অনুমান ছিল যা, সেটিই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে ধরা দিলো। গত মৌসুমে জাদুকরী পারফরম্যান্সের আরেকটি স্বীকৃতি পেলেন করিম বেনজেমা। ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। প্রথমবারের মতো বর্ষসেরার এই পুরস্কার পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

প্যারিসে সোমবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানে বেনজেমার হাতে তুলে দেয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পুরস্কার, ব্যালন ডি’অর ২০২২।

আর দুই যুগ পর ব্যালন ডি’অর জিতলেন ফ্রান্সের কোনো ফুটবলার। বেনজেমার আগে সবশেষ ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন জিনেদিন জিদান। সেই স্বদেশী কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেন বেনজামা।

দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাতটি ব্যালন ডি’অর নিয়ে আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও জার্মানির পাশে বসল ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার হয়ে সবগুলোই জেতেন মেসি, ব্যক্তিগতভাবে যা সর্বোচ্চ।

গত বছর সপ্তমবার জেতা মেসি এবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ই ছিলেন না, ২০০৫ সালের পর যা প্রথম। তালিকায় ২০তম স্থানে আছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৭ বছরের মধ্যে যা তার সর্বনিম্ন।

ব্যালন ডি’অরের জন্য আগে পুরো বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হলেও গত মার্চে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এই বছর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের পুরো একটি মৌসুমের সময়কে (অগাস্ট-জুলাই)।

গত মৌসুমে বেনজেমার যা পারফরম্যান্স ও অর্জন, তাতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সবচেয়ে ফেভারিট ছিলেন তিনিই।

২০২১-২২ মৌসুমে রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল বেনজেমার। ১৫ গোল করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১০টিই করেন নকআউট পর্বে। একের পর এক ম্যাচে রিয়ালের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক তিনি।

বিশেষ করে শেষ-১৬ ও কোয়ার্টার-ফাইনালে ফরাসি তারকার হ্যাটট্রিকেই পিএসজি ও চেলসিকে বিদায় করে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেমি-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটিও তারই করা।

গতবার রিয়ালের লা লিগা জয়েও বড় অবদান রেখে বেনজেমা করেন আসরের সর্বোচ্চ ২৭ গোল। এছাড়া ক্লাবের স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথে তিনি গোলের দেখা পান সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে। মাদ্রিদের দলটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে করেন ৪৪ গোল।

পুরস্কারটির বিবেচিত সময়ে জাতীয় দলেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেন বেনজেমা। গত বছরের অক্টোবরে ফ্রান্সের নেশন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। চার দলের ফাইনালসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন একটি করে। তাই পুরস্কারটি যে তার হাতেই উঠতে যাচ্ছে আগেই অনুমান করে রেখেছিল ফুটবল প্রেমীরা। কারন দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স— কোনো নিরিখেই বেনজেমাকে বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

এমন আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সের সুবাদে গত অগাস্টে প্রথমবারের মতো উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান বেনজেমা। এবার পেয়ে গেলেন আরো বড় স্বীকৃতি, ব্যালন ডি’অর!

‘ব্যালন ডি’অর-২০২২’-এর তালিতায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সাদিও মানে ও কেভিন ডি ব্রুইনা।

১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে কেবল ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেয়া শুরু হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে।

ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সাথে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।

কে কোন পুরস্কার জিতছেন

বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় : করিম বেনজেমা

বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড় : অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস

বর্ষসেরা ক্লাব : ম্যানচেস্টার সিটি

লেভ ইয়েশিন ট্রফি (সেরা গোলরক্ষক) : থিবো কোর্তোয়া

জার্ড ‍মুলার ট্রফি (সেরা স্ট্রাইকার) : রবার্ট লেভানডফস্কি

সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড (দাতব্য কাজে সম্পৃক্ততা) : সাদিও মানে

কোপা ট্রফি (অনূর্ধ্ব ২১ বছর বয়সী সেরা খেলোয়াড়) : পাবলো গাভি।

বিডিসংবাদ/এএইচএস