ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার এখন ঋণগ্রস্ত, বলছে নতুন জরিপ ঝিনাইদহে সারের ডিলারশিপ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের মানববন্ধন কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দুর্গাপূজা রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা: রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটুট প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের নির্দেশ হাইকোর্টের ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কে এএবিইএ-এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ইসরাইলের নির্বাচনে আরব ভোট ও নেতানিয়াহুর রাজনীতির হিসাব জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী দখলমুক্ত হয়ে খেলার মাঠ এখন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত

মিয়ানমারের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৮

  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২
  • / 140
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

বিবিসি বার্মিজকে স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে দুটি পার্সেল বোমা ওই কারাগারের প্রবেশপথে বিস্ফোরিত হয়। এতে কারাগারের তিন কর্মকর্তা ও পাঁচজন দর্শনার্থী মারা যান।

ইনসেইন কারাগারটি দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে প্রায় দশ হাজারের মতো বন্দী আছে। যাদের অনেকেই মূলত রাজনৈতিক বন্দী।

কোনো গোষ্ঠীই এ হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। এতে আরো অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারটির পোস্ট রুমে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়নি এবং সেটিকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। যে পাঁচজন দর্শনার্থী মারা গেছে, তারা সবাই নারী এবং কারাগারে থাকা বন্দীদের স্বজন।

নিহতদের মধ্যে একজন দেশটির ছাত্রনেতাদের একজন লিন টেট নেইং ওরফে জেমসের মা। তিনি আদালতে শুনানির দিনে তার ছেলের জন্য একটি বক্সে করে খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। নেইংকে সামরিক জান্তা গত জুনে আটক করেছিল।

তার শ্বশুর নে উইন জানান, তিনি মর্গে গিয়ে নেইংয়ের মায়ের লাশ দেখেছেন।

তিনি বলেণ, ‘আমার খুবই খারাপ লাগছে। তার স্বামী কিছুদিন আগেই মারা গেছেন। ছেলেকে কারাগারে গিয়ে খাবার ও অন্য দরকারি জিনিসপত্র দিতে একমাত্র তিনিই ছিলেন।

প্রায় এক দশক আগে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করা লিন টেট নেইং অনেকবারই গ্রেফতার হয়েছেন। গত বছরের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় তাকে আবার আটক করে জান্তা সরকার।

অং সান সুচির বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা ক্ষমতা দখল করেছিল।

ইনসেইন কারাগারটি বেশ বড় এবং এটিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি দেশটির সাবেক রাজধানীর শহরতলীতে অবস্থিত।

শতবর্ষী পুরনো এই কারাগারটি মূলত কঠোর পরিস্থিতি ও বন্দীদের সাথে অমানবিক আচরণের জন্য কুখ্যাত বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

এদিকে সামরিক সরকার দেশের বড় অংশেই প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে, বিশেষ করে যেখানে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফের গেরিলারা সক্রিয়।

ইয়াঙ্গুনে প্রায়ই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গত বছর অভ্যুত্থানবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনের পর থেকেই ছোটো ছোটো বোমা বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে।

এগুলোর লক্ষ্যবস্তু থাকে সাধারণত জান্তা সরকারকে সহায়তা করছে এমন ব্যক্তিরা, যেমন-সরকারি কর্মকর্তা, কথিত সোর্স ও সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামগুলোতে বিমান হামলার সাথে জড়িত পাইলটরা।

এছাড়া গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে দেশটিতে। পর্যবেক্ষকরা রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পাশাপাশি এসব ঘটনাকে গৃহযুদ্ধের লক্ষণ হিসেবে মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মিয়ানমারের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৮

আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

বিবিসি বার্মিজকে স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে দুটি পার্সেল বোমা ওই কারাগারের প্রবেশপথে বিস্ফোরিত হয়। এতে কারাগারের তিন কর্মকর্তা ও পাঁচজন দর্শনার্থী মারা যান।

ইনসেইন কারাগারটি দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে প্রায় দশ হাজারের মতো বন্দী আছে। যাদের অনেকেই মূলত রাজনৈতিক বন্দী।

কোনো গোষ্ঠীই এ হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। এতে আরো অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারটির পোস্ট রুমে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়নি এবং সেটিকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। যে পাঁচজন দর্শনার্থী মারা গেছে, তারা সবাই নারী এবং কারাগারে থাকা বন্দীদের স্বজন।

নিহতদের মধ্যে একজন দেশটির ছাত্রনেতাদের একজন লিন টেট নেইং ওরফে জেমসের মা। তিনি আদালতে শুনানির দিনে তার ছেলের জন্য একটি বক্সে করে খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। নেইংকে সামরিক জান্তা গত জুনে আটক করেছিল।

তার শ্বশুর নে উইন জানান, তিনি মর্গে গিয়ে নেইংয়ের মায়ের লাশ দেখেছেন।

তিনি বলেণ, ‘আমার খুবই খারাপ লাগছে। তার স্বামী কিছুদিন আগেই মারা গেছেন। ছেলেকে কারাগারে গিয়ে খাবার ও অন্য দরকারি জিনিসপত্র দিতে একমাত্র তিনিই ছিলেন।

প্রায় এক দশক আগে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করা লিন টেট নেইং অনেকবারই গ্রেফতার হয়েছেন। গত বছরের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় তাকে আবার আটক করে জান্তা সরকার।

অং সান সুচির বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা ক্ষমতা দখল করেছিল।

ইনসেইন কারাগারটি বেশ বড় এবং এটিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি দেশটির সাবেক রাজধানীর শহরতলীতে অবস্থিত।

শতবর্ষী পুরনো এই কারাগারটি মূলত কঠোর পরিস্থিতি ও বন্দীদের সাথে অমানবিক আচরণের জন্য কুখ্যাত বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

এদিকে সামরিক সরকার দেশের বড় অংশেই প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে, বিশেষ করে যেখানে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফের গেরিলারা সক্রিয়।

ইয়াঙ্গুনে প্রায়ই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গত বছর অভ্যুত্থানবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনের পর থেকেই ছোটো ছোটো বোমা বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে।

এগুলোর লক্ষ্যবস্তু থাকে সাধারণত জান্তা সরকারকে সহায়তা করছে এমন ব্যক্তিরা, যেমন-সরকারি কর্মকর্তা, কথিত সোর্স ও সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামগুলোতে বিমান হামলার সাথে জড়িত পাইলটরা।

এছাড়া গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে দেশটিতে। পর্যবেক্ষকরা রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পাশাপাশি এসব ঘটনাকে গৃহযুদ্ধের লক্ষণ হিসেবে মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস