ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে নতুন আতঙ্ক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দেবেন হুমায়ুন কবির ৩৪ দিন পর ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রাজপথে হাজারো বিক্ষোভকারী ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে রেকর্ড রোগী ভর্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছিল: জামায়াত আমির বিএনপি সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না: অভিযোগ আখতার হোসেনের

দ্রুত জিম্মি-বন্দী বিনিময়ের আহ্বান হামাসের

  • আপডেট সময় : ০২:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 109
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের আলোচকরা মিশরে যাওয়ার প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস রোববার ইসরাইলের সঙ্গে জিম্মি-বন্দী বিনিময় দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে ।

খবর বার্তাসংস্থা এএফপি’র।

মিশরসহ বেশ ক’টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, আলোচনাটি একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি অর্জনের ‘প্রকৃত সুযোগ’।

হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অনুসারে অবিলম্বে বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাস খুবই আগ্রহী।’

ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় বন্দীদের মুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোডম্যাপের প্রতি হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিশরে আলোচনার আগে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রুবিও সিবিএসকে বলেন, ‘হামলার মাঝখানে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া যাবে না, তাই হামলা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাঝখানে যুদ্ধ চলতে পারে না।’

আলোচকদের মিশরের শারম এল-শেখের রিসোর্টে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে কয়েক দিনের মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সোমবার মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। আলোচনাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে শুরু হতে যাচ্ছে।

কায়রো নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘সমস্ত ইসরাইলি বন্দী ও ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়ের স্থল পরিস্থিতি ও বিশদ বিবরণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন গ্রুপের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া। তিনি রোববার রাতে মিশরে পৌঁছাবেন।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-হাইয়ার দল ‘যুদ্ধবিরতি, দখলদার বাহিনী প্রত্যাহার ও বন্দী বিনিময়ের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।’

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প শনিবার মিশরে দুজন দূত-তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফকে পাঠিয়েছেন।

গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে উল্লেখ করে হামাসের ঘনিষ্ঠ একটি ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, ‘মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময়, হামাস জোর দিয়ে বলেছে, গাজা উপত্যকার সমস্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করা, সমস্ত বিমান, গোয়েন্দা ও ড্রোন কার্যকলাপ বন্ধ করা ও গাজা সিটির ভেতর থেকে প্রত্যাহার করা ইসরাইলের জন্য অপরিহার্য।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় হামাস ২৫১ জন জিম্মিকে আটক করে, যাদের মধ্যে ৪৭ জন এখনো গাজায় রয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জন মারা গেছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে, জিম্মিদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য, ইসরাইল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী ও যুদ্ধের সময় গাজা উপত্যকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বন্দীকে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-হামলা অব্যাহত-

ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি হামাসের ‘বিলম্ব সহ্য করবেন না’, দলটিকে দ্রুত একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন ‘অন্যথায় সমস্ত বাজি বন্ধ হয়ে যাবে।’

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন,‘হামাস যখন নিশ্চিত করবে, তখন যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হবে, জিম্মি ও বন্দী বিনিময় শুরু হবে ও আমরা পরবর্তী পর্যায়ের প্রত্যাহারের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করব।’

ইসরাইলি সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে সেনাবাহিনী গাজায় ‘যুদ্ধে ফিরে যাবে।’

এদিকে, ইসরাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এএফপি টিভি ফুটেজে রোববার উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশরেখায় ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা, হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স ফোর্স, জানিয়েছে, রোববার ইসরাইলি হামলায় পুরো অঞ্চল জুড়ে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন গাজা সিটিতে নিহত হয়।

নগরীর আল-রিমাল পাড়ার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী মুইন আবু রজব বলেছেন ‘গত রাত থেকে বিমান হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। ট্যাঙ্ক এবং সামরিক যানবাহন কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবে আমি বিশ্বাস করি, এটি প্রত্যাহার নয় বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।’

-হামাসের কোনও ভূমিকা নেই-

হামাসের প্রধান সমর্থক ইরান আলোচনার প্রাক্কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছে, তেহরান ফিলিস্তিনি জনগণের ‘আত্ম-নিয়ন্ত্রণের’ লক্ষ্যে যেকোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করে।

’হামাস জোর দিয়ে বলেছে যে এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য থাকবে। তবে ট্রাম্পের রোডম্যাপে বলা হয়েছে যে তাদের ও অন্যান্য দলগুলোর ‘গাজার শাসনে কোনও ভূমিকা থাকবে না।’

নেতানিয়াহু অনুমোদিত মার্কিন পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতিতে ৭২ ঘন্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। হামাস অতীতে এই পরিকল্পনাকে একটি লাল রেখা বলে অভিহিত করেছে।

প্রস্তাবের অধীনে, ভূখণ্ডের প্রশাসন একটি টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা গ্রহণ করবে যার তত্ত্বাবধানে ট্রাম্প নিজেই থাকবেন যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ।

আল-মাওয়ার বাসিন্দা আহমেদ বারবাখ বলেন, ‘আমরা আশা করি ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন ও তাকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবেন।’

‘আমরা চাই বন্দী বিনিময় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হোক যাতে ইসরাইলের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনও অজুহাত না থাকে।’

ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যানের একটি এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলায় কমপক্ষে ৬৭ হাজার ১৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দ্রুত জিম্মি-বন্দী বিনিময়ের আহ্বান হামাসের

আপডেট সময় : ০২:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের আলোচকরা মিশরে যাওয়ার প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস রোববার ইসরাইলের সঙ্গে জিম্মি-বন্দী বিনিময় দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে ।

খবর বার্তাসংস্থা এএফপি’র।

মিশরসহ বেশ ক’টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, আলোচনাটি একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি অর্জনের ‘প্রকৃত সুযোগ’।

হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অনুসারে অবিলম্বে বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাস খুবই আগ্রহী।’

ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় বন্দীদের মুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোডম্যাপের প্রতি হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিশরে আলোচনার আগে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রুবিও সিবিএসকে বলেন, ‘হামলার মাঝখানে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া যাবে না, তাই হামলা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাঝখানে যুদ্ধ চলতে পারে না।’

আলোচকদের মিশরের শারম এল-শেখের রিসোর্টে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে কয়েক দিনের মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সোমবার মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। আলোচনাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে শুরু হতে যাচ্ছে।

কায়রো নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘সমস্ত ইসরাইলি বন্দী ও ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়ের স্থল পরিস্থিতি ও বিশদ বিবরণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন গ্রুপের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া। তিনি রোববার রাতে মিশরে পৌঁছাবেন।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-হাইয়ার দল ‘যুদ্ধবিরতি, দখলদার বাহিনী প্রত্যাহার ও বন্দী বিনিময়ের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।’

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প শনিবার মিশরে দুজন দূত-তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফকে পাঠিয়েছেন।

গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে উল্লেখ করে হামাসের ঘনিষ্ঠ একটি ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, ‘মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময়, হামাস জোর দিয়ে বলেছে, গাজা উপত্যকার সমস্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করা, সমস্ত বিমান, গোয়েন্দা ও ড্রোন কার্যকলাপ বন্ধ করা ও গাজা সিটির ভেতর থেকে প্রত্যাহার করা ইসরাইলের জন্য অপরিহার্য।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় হামাস ২৫১ জন জিম্মিকে আটক করে, যাদের মধ্যে ৪৭ জন এখনো গাজায় রয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জন মারা গেছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে, জিম্মিদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য, ইসরাইল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী ও যুদ্ধের সময় গাজা উপত্যকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বন্দীকে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-হামলা অব্যাহত-

ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি হামাসের ‘বিলম্ব সহ্য করবেন না’, দলটিকে দ্রুত একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন ‘অন্যথায় সমস্ত বাজি বন্ধ হয়ে যাবে।’

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন,‘হামাস যখন নিশ্চিত করবে, তখন যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হবে, জিম্মি ও বন্দী বিনিময় শুরু হবে ও আমরা পরবর্তী পর্যায়ের প্রত্যাহারের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করব।’

ইসরাইলি সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে সেনাবাহিনী গাজায় ‘যুদ্ধে ফিরে যাবে।’

এদিকে, ইসরাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এএফপি টিভি ফুটেজে রোববার উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশরেখায় ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা, হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স ফোর্স, জানিয়েছে, রোববার ইসরাইলি হামলায় পুরো অঞ্চল জুড়ে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন গাজা সিটিতে নিহত হয়।

নগরীর আল-রিমাল পাড়ার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী মুইন আবু রজব বলেছেন ‘গত রাত থেকে বিমান হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। ট্যাঙ্ক এবং সামরিক যানবাহন কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবে আমি বিশ্বাস করি, এটি প্রত্যাহার নয় বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।’

-হামাসের কোনও ভূমিকা নেই-

হামাসের প্রধান সমর্থক ইরান আলোচনার প্রাক্কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছে, তেহরান ফিলিস্তিনি জনগণের ‘আত্ম-নিয়ন্ত্রণের’ লক্ষ্যে যেকোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করে।

’হামাস জোর দিয়ে বলেছে যে এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য থাকবে। তবে ট্রাম্পের রোডম্যাপে বলা হয়েছে যে তাদের ও অন্যান্য দলগুলোর ‘গাজার শাসনে কোনও ভূমিকা থাকবে না।’

নেতানিয়াহু অনুমোদিত মার্কিন পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতিতে ৭২ ঘন্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। হামাস অতীতে এই পরিকল্পনাকে একটি লাল রেখা বলে অভিহিত করেছে।

প্রস্তাবের অধীনে, ভূখণ্ডের প্রশাসন একটি টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা গ্রহণ করবে যার তত্ত্বাবধানে ট্রাম্প নিজেই থাকবেন যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ।

আল-মাওয়ার বাসিন্দা আহমেদ বারবাখ বলেন, ‘আমরা আশা করি ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন ও তাকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবেন।’

‘আমরা চাই বন্দী বিনিময় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হোক যাতে ইসরাইলের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনও অজুহাত না থাকে।’

ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যানের একটি এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলায় কমপক্ষে ৬৭ হাজার ১৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস