স্পিকার: সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন
- আপডেট সময় : ০২:২১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজনৈতিক অঙ্গনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাঁর মতে, সমাজের বড় দুর্নীতিবাজরাই বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলে এসেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সৎ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দেশের এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর আগামী দিনে আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের ওপর দয়া করবেন। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। সৎ লোকের রাজনীতি করার পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করতে পারিনি। দেশে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেখা গেল তাদের টর্চারসেল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বহু মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই দুঃশাসনের অবসান হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বিগত সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়েছিল। দলটির অনেক নেতা হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার কটাক্ষ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পলায় না’—এমন বড় গলার ঘোষণার বিপরীতে তারা এখন কোথায় তা জনগণ দেখছে। ইথিওপিয়ার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি দেশের উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নিজের সততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তিনি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।
নিজের বর্তমান অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি সাধারণ সদস্য হিসেবে আছেন এবং বর্তমানে নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন। তজুমদ্দিনে চাঁদাবাজি, মাস্তানি বা কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। কোনো জায়গা বা ঘরবাড়ি দখলের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের জানানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যদি নেতারাই কোনো অপকর্মে লিপ্ত থাকেন, তবে তা যেন সরাসরি তাঁকে অবহিত করা হয়। এলাকায় কেউ জমি বা ঘরবাড়ি দখল করলে কিংবা কাউকে হয়রানি করলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
সবশেষে, অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

























