ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচিত হলে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জাকির হোসেনের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন সৌদি আরবে ফ্লাইট বিধিনিষেধ: বিপাকে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী এইচএসসি ফলাফল: গোদাগাড়ীতে জিপিএ-৫ পেলেন কেবল নুসরাত আইনে রূপান্তর হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ ও ক্রয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন ৩৫ উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জহির উদ্দিন স্বপনের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ২০৬০ টাকা

যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ১১:০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ অনিয়মের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগটি এনেছেন রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার, যিনি প্রকল্পটির লিড পার্টনার হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। ভয়ংকর নজির দেখালেন মো. নজরুল ইসলাম।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া সরকার পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে কারাভোগও করতে হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাই বর্তমানে ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আবদুল হাই ৫ আগস্টের পর একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলে ছিলেন। তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়ির মো. ইউনূছ মিয়ার পুত্র। এতে চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

দরপত্র সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়ক আড়াই ফুট প্রশস্ত করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যৌথ উদ্যোগে এই কাজের দরপত্রে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ পায়। চুক্তির শর্তানুযায়ী কাজের মূল দায়িত্ব বা লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় গত ১২ আগস্ট আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে এই কাজের অনুমতি প্রদান করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার তীব্র আপত্তি জানান এবং চুক্তি বাতিলের আবেদন করেন। তিনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার আবেদনপত্র জমা দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। ওবায়েদুল হক সরকার বলেন, যৌথ উদ্যোগে চুক্তির পর আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তারা কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি আরও জানান, আবদুল হাই যুবলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন এবং বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামির সঙ্গে ব্যবসা করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব (পাওয়ার) দেওয়ার ঠিক ৪২ দিন অতিবাহিত হলেও আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি।

ওবায়েদুল হক সরকার আরও বলেন, কাজটি বাস্তবায়নের জন্য আমি আদালতের আদেশ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু লক্ষ্য করলাম, প্রকৌশলী মহোদয় নিয়মবহির্ভূতভাবে আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে দিয়েই কাজ করাচ্ছেন। যে ব্যক্তিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না, তিনি নিখোঁজ অবস্থায় কীভাবে লিড পার্টনারকে বাদ দিয়ে কাজ পরিচালনা করছেন? এটি একটি সূক্ষ্ম কারসাজি এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি কাজের মান খারাপ হলে এর দায় কে নেবে—সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এটা সত্যিই সূক্ষ্ম কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগের চুক্তিতে উভয় পক্ষই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী অফিসের সব কার্যক্রম ও ব্যাংকিং বিষয়ের দায়িত্ব আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিয়মের ভেতরে থেকেই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাকে অভিযোগে এনে কী লাভ।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ অনিয়মের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগটি এনেছেন রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার, যিনি প্রকল্পটির লিড পার্টনার হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। ভয়ংকর নজির দেখালেন মো. নজরুল ইসলাম।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া সরকার পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে কারাভোগও করতে হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাই বর্তমানে ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আবদুল হাই ৫ আগস্টের পর একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলে ছিলেন। তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়ির মো. ইউনূছ মিয়ার পুত্র। এতে চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

দরপত্র সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়ক আড়াই ফুট প্রশস্ত করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যৌথ উদ্যোগে এই কাজের দরপত্রে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ পায়। চুক্তির শর্তানুযায়ী কাজের মূল দায়িত্ব বা লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় গত ১২ আগস্ট আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে এই কাজের অনুমতি প্রদান করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার তীব্র আপত্তি জানান এবং চুক্তি বাতিলের আবেদন করেন। তিনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার আবেদনপত্র জমা দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। ওবায়েদুল হক সরকার বলেন, যৌথ উদ্যোগে চুক্তির পর আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তারা কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি আরও জানান, আবদুল হাই যুবলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন এবং বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামির সঙ্গে ব্যবসা করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব (পাওয়ার) দেওয়ার ঠিক ৪২ দিন অতিবাহিত হলেও আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি।

ওবায়েদুল হক সরকার আরও বলেন, কাজটি বাস্তবায়নের জন্য আমি আদালতের আদেশ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু লক্ষ্য করলাম, প্রকৌশলী মহোদয় নিয়মবহির্ভূতভাবে আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে দিয়েই কাজ করাচ্ছেন। যে ব্যক্তিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না, তিনি নিখোঁজ অবস্থায় কীভাবে লিড পার্টনারকে বাদ দিয়ে কাজ পরিচালনা করছেন? এটি একটি সূক্ষ্ম কারসাজি এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি কাজের মান খারাপ হলে এর দায় কে নেবে—সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এটা সত্যিই সূক্ষ্ম কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগের চুক্তিতে উভয় পক্ষই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী অফিসের সব কার্যক্রম ও ব্যাংকিং বিষয়ের দায়িত্ব আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিয়মের ভেতরে থেকেই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাকে অভিযোগে এনে কী লাভ।