ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুতে স্বামী গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০৭:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে রোমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গৃহবধূর প্রবাস ফেরত স্বামী আব্দুর রহিমকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাঁথিয়া থানা পুলিশ। আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে এবং নিহত রোমেনা কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আসামিকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে ছয় বছর থাকার পর বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে ফেরেন তিনি। সম্প্রতি বাবার বাড়িতে টাকা পাঠানো নিয়ে স্ত্রী রোমেনার সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। সোমবার রোমেনা তাকে না জানিয়ে বাবার বাড়িতে ১৩ হাজার টাকা পাঠালে আব্দুর রহিমের সাথে তার পুনরায় কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আব্দুর রহিম তার স্ত্রী রোমেনা খাতুনকে গলা টিপে হত্যা করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঝগড়ার সময় রাগের মাথায় গলা টিপে ধরলেও এমন পরিণতি হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি। সেখানে ৬ বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন।প্রায় দুই মাস হলো ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। গতকাল সোমবার সে আমাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারো তার বাবার বাড়ি পাঠায়। টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তার সাথে আমার ঝগড়া হয়। এনিয়ে আমি তাকে একপর্যায়ে গলা টিপে ধরলে সে মারা যায়। তবে আমি জানতামনা গলাটিপে ধরায় সে মারা যাবে।

নিহত রোমেনার বাবা মরহম আলী জানান, সোমবার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। নিহতের স্বজনরা তাকে মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গোসলের সময় রোমেনার শরীরে মারধরের চিহ্ন ও গলায় আঘাতের দাগ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায় এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুতে স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে রোমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গৃহবধূর প্রবাস ফেরত স্বামী আব্দুর রহিমকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাঁথিয়া থানা পুলিশ। আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে এবং নিহত রোমেনা কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আসামিকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে ছয় বছর থাকার পর বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে ফেরেন তিনি। সম্প্রতি বাবার বাড়িতে টাকা পাঠানো নিয়ে স্ত্রী রোমেনার সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। সোমবার রোমেনা তাকে না জানিয়ে বাবার বাড়িতে ১৩ হাজার টাকা পাঠালে আব্দুর রহিমের সাথে তার পুনরায় কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আব্দুর রহিম তার স্ত্রী রোমেনা খাতুনকে গলা টিপে হত্যা করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঝগড়ার সময় রাগের মাথায় গলা টিপে ধরলেও এমন পরিণতি হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি। সেখানে ৬ বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন।প্রায় দুই মাস হলো ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। গতকাল সোমবার সে আমাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারো তার বাবার বাড়ি পাঠায়। টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তার সাথে আমার ঝগড়া হয়। এনিয়ে আমি তাকে একপর্যায়ে গলা টিপে ধরলে সে মারা যায়। তবে আমি জানতামনা গলাটিপে ধরায় সে মারা যাবে।

নিহত রোমেনার বাবা মরহম আলী জানান, সোমবার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। নিহতের স্বজনরা তাকে মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গোসলের সময় রোমেনার শরীরে মারধরের চিহ্ন ও গলায় আঘাতের দাগ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায় এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।