ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় সরকারি সফরে আসছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি উভয় জেলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে খুলনা নগরী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ব্যাপক সাজসজ্জা এবং উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে প্রস্তুত হচ্ছে খুলনা। প্রতিদিনের চেনা নগরী ধারণ করছে নতুন রূপ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন ৫ নভেম্বরের দিকে। নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মাঝে মধ্যে খুলনায় আসতেন, তাহলে নগরী আর কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকত না। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ’ র দ্বিতীয় আসর। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা শহরকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

প্রথাগত তোরণ বা ব্যানারের পরিবর্তে নগরীর বিভিন্ন দেওয়ালে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নান্দনিক গ্রাফিতি ও ম্যুরাল আঁকা হয়েছে।

শিববাড়ি মোড়সহ প্রধান সড়কদ্বীপগুলো নতুন রঙে সেজেছে। নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রূপে সাজাতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা সার্কিট হাউস মাঠের জনসভাকে সফল করতে রাতদিন কাজ করছেন। ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল জানিয়েছেন, খেলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করবেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর খুলনার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। এরপর মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্দর এলাকার কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি সড়কপথে হযরত খান জাহান আলী (রঃ)-এর মাজার শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে খুলনা শহরের অভিমুখে যাত্রা করবেন। বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউসে বিরতির পর তিনি বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (সিজন-২)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন। সবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নগরীর প্রতিটি প্রান্তে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। নগরীর এই নতুন সাজে যুক্ত হয়েছে উৎসবের আবহ, সৃষ্টি হয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস, আনন্দ ও অভূতপূর্ব উদ্দীপনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় সরকারি সফরে আসছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি উভয় জেলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে খুলনা নগরী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ব্যাপক সাজসজ্জা এবং উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে প্রস্তুত হচ্ছে খুলনা। প্রতিদিনের চেনা নগরী ধারণ করছে নতুন রূপ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন ৫ নভেম্বরের দিকে। নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মাঝে মধ্যে খুলনায় আসতেন, তাহলে নগরী আর কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকত না। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ’ র দ্বিতীয় আসর। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা শহরকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

প্রথাগত তোরণ বা ব্যানারের পরিবর্তে নগরীর বিভিন্ন দেওয়ালে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নান্দনিক গ্রাফিতি ও ম্যুরাল আঁকা হয়েছে।

শিববাড়ি মোড়সহ প্রধান সড়কদ্বীপগুলো নতুন রঙে সেজেছে। নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রূপে সাজাতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা সার্কিট হাউস মাঠের জনসভাকে সফল করতে রাতদিন কাজ করছেন। ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল জানিয়েছেন, খেলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করবেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর খুলনার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। এরপর মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্দর এলাকার কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি সড়কপথে হযরত খান জাহান আলী (রঃ)-এর মাজার শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে খুলনা শহরের অভিমুখে যাত্রা করবেন। বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউসে বিরতির পর তিনি বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (সিজন-২)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন। সবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নগরীর প্রতিটি প্রান্তে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। নগরীর এই নতুন সাজে যুক্ত হয়েছে উৎসবের আবহ, সৃষ্টি হয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস, আনন্দ ও অভূতপূর্ব উদ্দীপনা।