ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জে সাবেক এমপির ছেলেকে নিরাপত্তা ঘটনায়: তদন্তে পুলিশ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনা: ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের চিঠি জেলা প্রশাসকের আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য প্রীতি সম্মেলন পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন টেনেরিফের ফুটবলার হেসুস দে মিগেল আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, ইন্ধন দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জে প্রেমের বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০

মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বৃহৎ তিনটি অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট নির্মাণ, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু স্থাপন এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহের জন্য এই অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) কাঠামোর আওতায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা চলছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। এরই অংশ হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইডিসিএফ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। কেক্সিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মেট্রোরেলসহ তিনটি প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় চলমান সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এসময় ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি সার্বভৌম তহবিল গঠনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে, যার মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগ এবং কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তি প্রয়োগে সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এআই কর্মসূচির সঙ্গে কোরীয় সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশের বৃহৎ তিনটি অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট নির্মাণ, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু স্থাপন এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহের জন্য এই অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) কাঠামোর আওতায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা চলছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। এরই অংশ হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইডিসিএফ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। কেক্সিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মেট্রোরেলসহ তিনটি প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় চলমান সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এসময় ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি সার্বভৌম তহবিল গঠনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে, যার মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগ এবং কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তি প্রয়োগে সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এআই কর্মসূচির সঙ্গে কোরীয় সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।