এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন দেশের বেকারত্ব সমস্যাকে আরও জটিল করে না তোলে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি, মানুষ প্রযুক্তির সেবক হওয়ার জন্য নয়। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ যেন মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ও মানবিক মূল্যবোধ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। তবে এআই ব্যবহারে ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। প্রযুক্তির পরিবর্তনের শুধু অংশীদার নয়, প্রণেতা হতে হবে বাংলাদেশকে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসের প্রথম এই এআই বিজনেস সামিট আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (ডিসিসিআই) ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে এক মহাপরিবর্তনের সময় চলছে, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে বাংলাদেশের কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ কেমন হবে এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে, তা এআইয়ের সফল ব্যবহারের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে এআইকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের জন্য এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মতে, যে জাতি যত দ্রুত নতুন প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে পারে, তাদের ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল। বিদ্যুতের মতোই এআই মানব সভ্যতায় যুগান্তকারী প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুতের মতো এআইও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে এবং সামনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
তবে এআই ব্যবহারের ঝুঁকির দিকটিও তিনি সতর্ক করে দেন। রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে মানবসভ্যতা অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে এআই যেন কোনো বাধার কারণ না হয়, সে বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
দেশের তরুণ সমাজকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এআইয়ের সুফল ঘরে তুলতে সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে, যেখানে নৈতিকতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমাজের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইকে শুধুমাত্র ব্যয় সংকোচনের সরঞ্জাম হিসেবে দেখা ভুল হবে। একে নতুন পণ্য উদ্ভাবন, নতুন বাজার সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ সম্ভব। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানে। আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়, বরং এআই-সক্ষম ও উদ্ভাবনসমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়া। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

























