ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট

  • আপডেট সময় : ১০:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

স্থানীয় সময় শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রোববার থেকেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করলেন। পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন দখল করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের পক্ষে আরব দলগুলোসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন মাত্র ৪৬ জন। আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়তে পারে।

আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় আট মাস পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে তিনি কিছুটা ইতস্ততবোধ করছেন, তবুও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টির মতো অতি-গোঁড়া দলগুলোর সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়বে। এর জবাবে জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমদ তিবি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তিবি দাবি করেন, নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি চরমপন্থীদের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আরব দলগুলোর আদর্শগত অবস্থানের বাইরে গিয়েও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোই বর্তমানে তাদের অগ্রাধিকার বলে তিবি মন্তব্য করেন। এমন সরকারকে ‘ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে সুযোগ দেবেন। সেই প্রক্রিয়াতেও ব্যর্থতা এলে পার্লামেন্টের অধিকাংশের সমর্থনে তৃতীয় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে পুনরায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট

আপডেট সময় : ১০:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

স্থানীয় সময় শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রোববার থেকেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করলেন। পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন দখল করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের পক্ষে আরব দলগুলোসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন মাত্র ৪৬ জন। আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়তে পারে।

আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় আট মাস পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে তিনি কিছুটা ইতস্ততবোধ করছেন, তবুও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টির মতো অতি-গোঁড়া দলগুলোর সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়বে। এর জবাবে জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমদ তিবি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তিবি দাবি করেন, নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি চরমপন্থীদের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আরব দলগুলোর আদর্শগত অবস্থানের বাইরে গিয়েও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোই বর্তমানে তাদের অগ্রাধিকার বলে তিবি মন্তব্য করেন। এমন সরকারকে ‘ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে সুযোগ দেবেন। সেই প্রক্রিয়াতেও ব্যর্থতা এলে পার্লামেন্টের অধিকাংশের সমর্থনে তৃতীয় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে পুনরায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।