মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে ইরানের বিষয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৬:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে তেহরানকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করার হুমকি দিয়ে চলেছেন তিনি, আবার পরক্ষণেই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সুরও শোনাচ্ছেন তার কণ্ঠে। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এখন নিজ দেশের ভেতরে বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
সামরিক উত্তেজনার নতুন কেন্দ্র হরমুজ
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব মাথায় রেখে সম্প্রতি কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, নিজস্ব নৌ ও বিমান বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের আকাশে তারা একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সতর্কতা
- ট্রাম্পের হঠাৎ কোনো কঠোর সিদ্ধান্তের আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে।
- বিশেষ করে বুশেহর এবং পিকঅ্যাক্স পর্বতের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী জনপদগুলোতে এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- এদিকে মার্কিন সরকার ইরানের পারমাণবিক তথ্য প্রদানের বিনিময়ে দুই কোটি ডলারের বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
নির্বাচনী ব্যর্থতার পর ট্রাম্প নিজ দেশের নাগরিকদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পড়েছেন। তবে তিনি ইরানের আরোপিত শর্তাবলি যেমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা সম্পদ ফেরতের মতো বিষয়গুলো মানতে নারাজ। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক অবস্থান এবং তাদের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা ট্রাম্পকে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিচ্ছে। মূলত সীমিত অভিযান থেকে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের দোলাচল কাজ করছে। তবুও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে গোপনে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও শান্তি প্রস্তাবের আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছে, যদিও মার্কিন সামরিক কমান্ড যেকোনো সময় বড় ধরনের অভিযানের নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
























