ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

‘দেশের বাইরে সফলতা সহজ ব্যাপার নয়’: ব্রাজিল প্রবাসী নাজমুল

  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৯
  • / 1101
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাজিল থেকে মীর আহম্মেদ মীরুঃ  বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রবাসে মানে দেশের বাইরে অবস্থান করে।

দেশের বাইরে যারা বসবাস করে তাদেরকে প্রবাসী বলা হয়। মূলত পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তাদের ভিনদেশে পাড়ি জমাতে হয়। তাদের কেউ সমাজের অবস্থানে টিকে থাকতে না পেরে প্রতিষ্ঠিত হতে যায়, আবার অনেকে যায় দেশান্তর হয়ে পুরোপুরি বসবাস করতে।

যে যেই অবস্থানেই যাক তাদের প্রত্যেকেই সেখানে কিছু করে টিকে থাকতে হয় বা বলা যায় পরিশ্রম করে বেঁচে থাকা। কারেন্সির দিক থেকে টাকার পার্থ্যক্যে অন্য সব উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশের টাকার মান কম।

সেক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে সেখানে আয় অনেক বেশি পরিশ্রম কম, এবং খুব সহজে সফল হওয়া যায়।

দক্ষিন আমেরিকার মধ্যম আয়ের দেশ ব্রাজিল। বাংলাদেশের অনেক মানুষ জীবিকার জন্য বসবাস করে। তেমনি একজন হলেন ব্রাজিল প্রবাসী নাজমুল ইসলাম লিমন। তিনি শরিয়তপুর জেলার বাসিন্দা। এখন বর্তমানে জীবিকার তাগিতে সেখানে বসবাস করছেন।

বিডিসংবাদের একান্ত এক সাক্ষাৎকারে নাজমুল ইসলাম তাঁর সম্পর্কে এবং ব্রাজিলে বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত জানান।

বিডিসংবাদকেমন আছেন?

নাজমুল ইসলাম– আসসালামুয়ালাইকুম, এইতো আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো।

বিডিসংবাদ ব্রাজিলে আপনি কতদিন ধরে বসবাস করছেন এবং এখানে আসার মূল উদ্দেশ্যটা কি?

নাজমুল ইসলাম– আমি গত ২০১৪’তে ব্রাজিলে আসি। মূলত জীবিকার তাগিদে ব্রাজিলে আসা। দেশে আমার অর্থনৈতিক অবস্থান ভালো না হওয়ায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আশায় জন্য দেশান্তর হই।

বিডিসংবাদব্রাজিলে আসার পর আপনি কেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন?

নাজমুল ইসলাম– সে এক বিশাল ইতিহাস ভাই। ২০১৪ এ ব্রাজিলে আসি মাত্র ১০০০ রিয়েল নিয়ে ব্যবসা করতে। মানুষের মুখে শুনতাম ব্রাজিলে আসলে সহজে খুব সফল হওয়া যায় এবং ব্যবসা করলে লাভবান হওয়া যায়, তবে সেটা সব ক্ষেত্রে ঠিক না। কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রম ছাড়া কোন কিছুই সহজ না। আমি যখন ব্যবসা শুরু করি যদিও পুঁজি তুলনামূলক অনেক কম ছিল তাই অনেক খাঁটাখুটনি করতে হত মাল বিক্রি করতে। আমি রাস্তার ফুটপাতে মাল নিয়ে রাত ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাস্তায় মাল বিক্রি করতাম।  ব্রাজিলে কিছু কিছু অপরাধ সংঘটিত এলাকা রয়েছে, একটু অসাবধানতার জন্য অনেক সমস্যা হয়ে যেত। আবার ছিল দুর্বলদের উপর সবলের অত্যাচার। সব কিছু মিলিয়ে আমার জন্য ছিল দুরুহু।

তাঁর উপর ছিল রাস্তায় ব্যবসায়ীদের সেখানকার আবহাওয়া নিয়ে সমস্যা। কখন রোদ বৃষ্টি হয় বলা যায় না। প্রচন্ড রোদ বৃষ্টি আর ধুলাবালিতে নিজের শরীর খারাপ হয়ে যায়।  মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংগ্রাম করতাম। কিন্তু উপায় না পেয়ে সেই কাজ অনেক দিন করেছি।

পরে বাধ্য হয়ে চিন্তা করলাম সিজনাল মেলায় দোকান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করবো। তখন বস্তায় বস্তায় মাল বাসে উঠিয়ে রওনা দিয়ে যেতাম ব্রাজিলের এক শহর থেকে অন্য শহরে যেটা ছিল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার। প্রায় তিন চারদিন বাস জার্নি করা লাগতো।

কিন্তু দুর্ভাগ্যে যেনো পথ ছাড়ে না  ওখানে আরো অনেক বেশি কষ্ট করা লাগতো। খাওয়া,থাকার কোন পরিবেশ নেই। খোলা ময়দানে আকাশের নিচে শুয়ে থাকা লাগতো। নামাজ কালাম পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

এই ভাবে দীর্ঘ এক বছর আমি মেলায় ব্যবসা করেছি কিন্তু পরিবারকে ঠিক মত কোন টাকা পাঠাতে পারি নাই।

বিডিসংবাদআপনি এই কঠিন পরিস্থিতিটি কিভাবে মোকাবেল করেছেন? পরবর্তী পদক্ষেপটা কি ছিল?…

নাজমুল ইসলাম– একটা সময় ভেবেছি আর মেলা করবো না। তখন প্রায় চার পাঁচ মাস বাসায় ছিলাম মাত্র ৫-১০ টাকা নিয়ে কোন রকম দিন চালিয়েছি। নামাজ পরে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতাম এই কঠিন পরিস্থিতি যেনো আমাকে পরিত্রান দেয়।

পরবর্তীতে একটা মার্কেটে ছোট কাপড়ের দোকান দেই যেখানে ছেলে-মেয়েদের জিন্সের প্যান্ট বিক্রি করা হয়। এখানে এরাবিক, ব্রাজিলিয়ান এবং বাংলাদেশের অনেক কাপড়ের ফ্যাক্টরি রয়েছে। তাদের প্রোডাক্ট এনে দোকানে বিক্রি করা শুরু করি। যেখানে দোকান দেই সেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষ একসাথে ব্যবসা করে। এখানের পরিবেশ আগেকার থেকে অনেক ভালো এবং এখানকার মানুষগুলো একে অপরের প্রতি অনেক আন্তরিক ও সাহায্যে প্রবণ।

সেই মার্কেটে বাংলাদেশি কিছু মার্কেট রয়েছে তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিডি জিন্স। বিডি জিন্সের দায়িত্ব রয়েছেন রুহুল ভাই। তাঁর প্রোডাক্ট কোয়ালিটি অনেক ভালো তাই বিক্রি তুলনামূলক ভালো। দীর্ঘ ৫ বছর যাবত আমি এই পোশাক শিল্প নিয়ে ব্যবসা করছি।

বিডিসংবাদ আপনার এখন বর্তমান অবস্থা কেমন?

নাজমুল ইসলাম– আমার বর্তমান অবস্থা মোটামুটি আল্লাহর রহমতে ভালো। কাপড়ের দোকান নিয়ে আমার ব্যবসা চলছে। পরিবারকে মোটামুটি আর্থিভাবে সাহায্যে করতে পারছি। তবে এর মধ্যে ছিল বিশাল ত্যগ ও তিতিক্ষা।

বিডিসংবাদ  দেশের উদ্দেশ্যে ও সরকারের কাছ থেকে একজন প্রবাসী হয়ে কিছু চাওয়ার আছে কিনা? থাকলে বলুন…

নাজমুল ইসলাম– হ্যাঁ…দেশের উদ্দেশ্যে এটাই বলতে চাই যারা প্রবাসে থাকে বা দেশের বাইরে যেতে ইচ্ছুক জীবিকার জন্য তাদের সেই কঠিন মনোবল নিয়ে আসা উচিত। যাতে কিছু করার মত সামর্থ থাকে এবং শক্তি থাকে।

সরকারকে বলতে চাই- আমরা যারা প্রবাসে থাকি। তাঁরা দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। নিজ উপার্জনের টাকা দেশে পাঠিয়ে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করি। কিন্তু আমরা সেই পর্যাপ্ত সম্মান পাচ্ছি না। উল্টো আমাদের হ্যায় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, ছোট করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।

এছাড়া ব্রাজিলে আমাদের জন্য যে এম্বাসি রয়েছে তাদের থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-পাচ্ছি না। কোন বাঙালী প্রবাসী মারা গেলে তাকে কেউ দেখার নাই। আমাদের সকলের উদ্যেগে অনেক টাকা খরচ করে তাকে দেশে পাঠানো হয়। এ কেমন অবিচার!
আমরা প্রবাসীরা দেশের একেকজন যোদ্ধা। আমাদের রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। আমারা কেনো প্রাপ্য সম্মানটুকু পাবো না। আমাদের অনেক তরুন উদ্যেগতা রয়েছে তাদেরকে যদি একটু সাহায্যে -সহযোগিতা করা যায়   তাহলে ভালো কিছু করতে পারবে সবাই দেশের জন্য। আমি বিনীত আকুল আবেদন জানাই সরকার থেকে এ বিষয়টা দেখার জন্য…

বিডিসংবাদ ধন্যবাদ আপনাকে।

নাজমুল ইসলাম– আপনাকে ও বিডিসংবাদকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

‘দেশের বাইরে সফলতা সহজ ব্যাপার নয়’: ব্রাজিল প্রবাসী নাজমুল

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৯

ব্রাজিল থেকে মীর আহম্মেদ মীরুঃ  বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রবাসে মানে দেশের বাইরে অবস্থান করে।

দেশের বাইরে যারা বসবাস করে তাদেরকে প্রবাসী বলা হয়। মূলত পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তাদের ভিনদেশে পাড়ি জমাতে হয়। তাদের কেউ সমাজের অবস্থানে টিকে থাকতে না পেরে প্রতিষ্ঠিত হতে যায়, আবার অনেকে যায় দেশান্তর হয়ে পুরোপুরি বসবাস করতে।

যে যেই অবস্থানেই যাক তাদের প্রত্যেকেই সেখানে কিছু করে টিকে থাকতে হয় বা বলা যায় পরিশ্রম করে বেঁচে থাকা। কারেন্সির দিক থেকে টাকার পার্থ্যক্যে অন্য সব উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশের টাকার মান কম।

সেক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে সেখানে আয় অনেক বেশি পরিশ্রম কম, এবং খুব সহজে সফল হওয়া যায়।

দক্ষিন আমেরিকার মধ্যম আয়ের দেশ ব্রাজিল। বাংলাদেশের অনেক মানুষ জীবিকার জন্য বসবাস করে। তেমনি একজন হলেন ব্রাজিল প্রবাসী নাজমুল ইসলাম লিমন। তিনি শরিয়তপুর জেলার বাসিন্দা। এখন বর্তমানে জীবিকার তাগিতে সেখানে বসবাস করছেন।

বিডিসংবাদের একান্ত এক সাক্ষাৎকারে নাজমুল ইসলাম তাঁর সম্পর্কে এবং ব্রাজিলে বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত জানান।

বিডিসংবাদকেমন আছেন?

নাজমুল ইসলাম– আসসালামুয়ালাইকুম, এইতো আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো।

বিডিসংবাদ ব্রাজিলে আপনি কতদিন ধরে বসবাস করছেন এবং এখানে আসার মূল উদ্দেশ্যটা কি?

নাজমুল ইসলাম– আমি গত ২০১৪’তে ব্রাজিলে আসি। মূলত জীবিকার তাগিদে ব্রাজিলে আসা। দেশে আমার অর্থনৈতিক অবস্থান ভালো না হওয়ায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আশায় জন্য দেশান্তর হই।

বিডিসংবাদব্রাজিলে আসার পর আপনি কেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন?

নাজমুল ইসলাম– সে এক বিশাল ইতিহাস ভাই। ২০১৪ এ ব্রাজিলে আসি মাত্র ১০০০ রিয়েল নিয়ে ব্যবসা করতে। মানুষের মুখে শুনতাম ব্রাজিলে আসলে সহজে খুব সফল হওয়া যায় এবং ব্যবসা করলে লাভবান হওয়া যায়, তবে সেটা সব ক্ষেত্রে ঠিক না। কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রম ছাড়া কোন কিছুই সহজ না। আমি যখন ব্যবসা শুরু করি যদিও পুঁজি তুলনামূলক অনেক কম ছিল তাই অনেক খাঁটাখুটনি করতে হত মাল বিক্রি করতে। আমি রাস্তার ফুটপাতে মাল নিয়ে রাত ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাস্তায় মাল বিক্রি করতাম।  ব্রাজিলে কিছু কিছু অপরাধ সংঘটিত এলাকা রয়েছে, একটু অসাবধানতার জন্য অনেক সমস্যা হয়ে যেত। আবার ছিল দুর্বলদের উপর সবলের অত্যাচার। সব কিছু মিলিয়ে আমার জন্য ছিল দুরুহু।

তাঁর উপর ছিল রাস্তায় ব্যবসায়ীদের সেখানকার আবহাওয়া নিয়ে সমস্যা। কখন রোদ বৃষ্টি হয় বলা যায় না। প্রচন্ড রোদ বৃষ্টি আর ধুলাবালিতে নিজের শরীর খারাপ হয়ে যায়।  মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংগ্রাম করতাম। কিন্তু উপায় না পেয়ে সেই কাজ অনেক দিন করেছি।

পরে বাধ্য হয়ে চিন্তা করলাম সিজনাল মেলায় দোকান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করবো। তখন বস্তায় বস্তায় মাল বাসে উঠিয়ে রওনা দিয়ে যেতাম ব্রাজিলের এক শহর থেকে অন্য শহরে যেটা ছিল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার। প্রায় তিন চারদিন বাস জার্নি করা লাগতো।

কিন্তু দুর্ভাগ্যে যেনো পথ ছাড়ে না  ওখানে আরো অনেক বেশি কষ্ট করা লাগতো। খাওয়া,থাকার কোন পরিবেশ নেই। খোলা ময়দানে আকাশের নিচে শুয়ে থাকা লাগতো। নামাজ কালাম পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

এই ভাবে দীর্ঘ এক বছর আমি মেলায় ব্যবসা করেছি কিন্তু পরিবারকে ঠিক মত কোন টাকা পাঠাতে পারি নাই।

বিডিসংবাদআপনি এই কঠিন পরিস্থিতিটি কিভাবে মোকাবেল করেছেন? পরবর্তী পদক্ষেপটা কি ছিল?…

নাজমুল ইসলাম– একটা সময় ভেবেছি আর মেলা করবো না। তখন প্রায় চার পাঁচ মাস বাসায় ছিলাম মাত্র ৫-১০ টাকা নিয়ে কোন রকম দিন চালিয়েছি। নামাজ পরে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতাম এই কঠিন পরিস্থিতি যেনো আমাকে পরিত্রান দেয়।

পরবর্তীতে একটা মার্কেটে ছোট কাপড়ের দোকান দেই যেখানে ছেলে-মেয়েদের জিন্সের প্যান্ট বিক্রি করা হয়। এখানে এরাবিক, ব্রাজিলিয়ান এবং বাংলাদেশের অনেক কাপড়ের ফ্যাক্টরি রয়েছে। তাদের প্রোডাক্ট এনে দোকানে বিক্রি করা শুরু করি। যেখানে দোকান দেই সেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষ একসাথে ব্যবসা করে। এখানের পরিবেশ আগেকার থেকে অনেক ভালো এবং এখানকার মানুষগুলো একে অপরের প্রতি অনেক আন্তরিক ও সাহায্যে প্রবণ।

সেই মার্কেটে বাংলাদেশি কিছু মার্কেট রয়েছে তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিডি জিন্স। বিডি জিন্সের দায়িত্ব রয়েছেন রুহুল ভাই। তাঁর প্রোডাক্ট কোয়ালিটি অনেক ভালো তাই বিক্রি তুলনামূলক ভালো। দীর্ঘ ৫ বছর যাবত আমি এই পোশাক শিল্প নিয়ে ব্যবসা করছি।

বিডিসংবাদ আপনার এখন বর্তমান অবস্থা কেমন?

নাজমুল ইসলাম– আমার বর্তমান অবস্থা মোটামুটি আল্লাহর রহমতে ভালো। কাপড়ের দোকান নিয়ে আমার ব্যবসা চলছে। পরিবারকে মোটামুটি আর্থিভাবে সাহায্যে করতে পারছি। তবে এর মধ্যে ছিল বিশাল ত্যগ ও তিতিক্ষা।

বিডিসংবাদ  দেশের উদ্দেশ্যে ও সরকারের কাছ থেকে একজন প্রবাসী হয়ে কিছু চাওয়ার আছে কিনা? থাকলে বলুন…

নাজমুল ইসলাম– হ্যাঁ…দেশের উদ্দেশ্যে এটাই বলতে চাই যারা প্রবাসে থাকে বা দেশের বাইরে যেতে ইচ্ছুক জীবিকার জন্য তাদের সেই কঠিন মনোবল নিয়ে আসা উচিত। যাতে কিছু করার মত সামর্থ থাকে এবং শক্তি থাকে।

সরকারকে বলতে চাই- আমরা যারা প্রবাসে থাকি। তাঁরা দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। নিজ উপার্জনের টাকা দেশে পাঠিয়ে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করি। কিন্তু আমরা সেই পর্যাপ্ত সম্মান পাচ্ছি না। উল্টো আমাদের হ্যায় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, ছোট করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।

এছাড়া ব্রাজিলে আমাদের জন্য যে এম্বাসি রয়েছে তাদের থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-পাচ্ছি না। কোন বাঙালী প্রবাসী মারা গেলে তাকে কেউ দেখার নাই। আমাদের সকলের উদ্যেগে অনেক টাকা খরচ করে তাকে দেশে পাঠানো হয়। এ কেমন অবিচার!
আমরা প্রবাসীরা দেশের একেকজন যোদ্ধা। আমাদের রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। আমারা কেনো প্রাপ্য সম্মানটুকু পাবো না। আমাদের অনেক তরুন উদ্যেগতা রয়েছে তাদেরকে যদি একটু সাহায্যে -সহযোগিতা করা যায়   তাহলে ভালো কিছু করতে পারবে সবাই দেশের জন্য। আমি বিনীত আকুল আবেদন জানাই সরকার থেকে এ বিষয়টা দেখার জন্য…

বিডিসংবাদ ধন্যবাদ আপনাকে।

নাজমুল ইসলাম– আপনাকে ও বিডিসংবাদকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

বিডিসংবাদ/এএইচএস