ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্বাসনালীর প্রদাহ সমস্যা : প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • আপডেট সময় : ০১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০১৭
  • / 1841

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নাজিম আহমেদ

বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডাঃ নাজিম আহমেদঃ  শ্বাসনালীর প্রদাহ বা ইনফেকশন শীতকালে আমাদের দেশে বেশি হয়। বিশেষ করে শীতের শুরুতে এবং শীতের শেষে। এই সময়ে ধুলাবালি বেশি থাকে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং বায়ুর আর্দতা হ্রাস পাওয়াও এর কারণ হতে পারে। আর এই রোগগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে শিশুরা বিশেষ করে ৫ বছরের নিচের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই অসুস্থতা আমাদের দেশের জন্যে একটা বিরাট বোঝা।

শ্বাসনালী

যেহেতু আমাদের দেশে সঠিক রোগ নির্ণয় করা ব্যয়বহুল এবং সুযোগ সুবিধা ও সীমিত আমাদের উচিৎ হবে কিভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা বা কমানো যায় সেদিকে খেয়াল করা। এ ব্যাপারে পিতা-মাতার জন্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ প্রতিরোধে টীকা দানের ব্যবস্থা করা। সরকার অবশ্য সাম্প্রতিককালে হিব এবং পিউমোবাকাল টীকা দান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যার ফলে আশরা করা যায় আগামীতে এই রোগগুলো ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।

শ্বাসনালী বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগের ভিতর সাধারণ সর্দি-কাশী। মধ্যকর্নের প্রদাহ গলার ইনফেকশান এবং বুকের ইনফেকশান ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া টনছিলাইটিস, লেরেনজাইটিস ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনফেকশান হয়ে থাকে ভাইরাস এর মাধ্যমে যা কিনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কোন এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। তাই সব ক্ষেত্রেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অথচ আমাদের দেশে যা কি না আমাদের দেশে একটু বেশি মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে। অতি মাত্রায় অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার আমাদের দুটো ক্ষতি করছে। এক ঔষধের কার্যকারীতা নষ্ট হওয়া আর জাতীয় আর্থিক ক্ষতি।

# এই রোগগুলো প্রতিরোধে আমরা যা গ্রহণ করতে পারি :-

১. পারিবারিক শিক্ষা, সাধারণ জ্ঞান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেখানে সেখানে কফ-থুথু না ফেলা, শিশুর যত্ন এবং সুষম পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা।
২. রোগ প্রতিরোধে টীকাদান, নিউমোনিয়া, হিব্ এবং ফ্লু ভেকসিন গ্রহণ করা।
৩. প্রয়োজনে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সময় মতো ব্যবহার করা।

পরিবেশের উন্নতি সাধন হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে পারলে, জনসচেতনতা বাড়ালে আশা করা যায় শীতকালীন সময়ে শ্বাসনালীর রোগসমূহ ধীরে ধীরে আমাদের দেশে কমে আসবে।

লেখক : ডাঃ নাজিম আহমেদ
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেড
পান্থপথ, ঢাকা

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্বাসনালীর প্রদাহ সমস্যা : প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ টিপস

আপডেট সময় : ০১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০১৭

ডাঃ নাজিম আহমেদঃ  শ্বাসনালীর প্রদাহ বা ইনফেকশন শীতকালে আমাদের দেশে বেশি হয়। বিশেষ করে শীতের শুরুতে এবং শীতের শেষে। এই সময়ে ধুলাবালি বেশি থাকে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং বায়ুর আর্দতা হ্রাস পাওয়াও এর কারণ হতে পারে। আর এই রোগগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে শিশুরা বিশেষ করে ৫ বছরের নিচের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই অসুস্থতা আমাদের দেশের জন্যে একটা বিরাট বোঝা।

শ্বাসনালী

যেহেতু আমাদের দেশে সঠিক রোগ নির্ণয় করা ব্যয়বহুল এবং সুযোগ সুবিধা ও সীমিত আমাদের উচিৎ হবে কিভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা বা কমানো যায় সেদিকে খেয়াল করা। এ ব্যাপারে পিতা-মাতার জন্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ প্রতিরোধে টীকা দানের ব্যবস্থা করা। সরকার অবশ্য সাম্প্রতিককালে হিব এবং পিউমোবাকাল টীকা দান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যার ফলে আশরা করা যায় আগামীতে এই রোগগুলো ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।

শ্বাসনালী বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগের ভিতর সাধারণ সর্দি-কাশী। মধ্যকর্নের প্রদাহ গলার ইনফেকশান এবং বুকের ইনফেকশান ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া টনছিলাইটিস, লেরেনজাইটিস ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনফেকশান হয়ে থাকে ভাইরাস এর মাধ্যমে যা কিনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কোন এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। তাই সব ক্ষেত্রেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অথচ আমাদের দেশে যা কি না আমাদের দেশে একটু বেশি মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে। অতি মাত্রায় অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার আমাদের দুটো ক্ষতি করছে। এক ঔষধের কার্যকারীতা নষ্ট হওয়া আর জাতীয় আর্থিক ক্ষতি।

# এই রোগগুলো প্রতিরোধে আমরা যা গ্রহণ করতে পারি :-

১. পারিবারিক শিক্ষা, সাধারণ জ্ঞান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেখানে সেখানে কফ-থুথু না ফেলা, শিশুর যত্ন এবং সুষম পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা।
২. রোগ প্রতিরোধে টীকাদান, নিউমোনিয়া, হিব্ এবং ফ্লু ভেকসিন গ্রহণ করা।
৩. প্রয়োজনে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সময় মতো ব্যবহার করা।

পরিবেশের উন্নতি সাধন হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে পারলে, জনসচেতনতা বাড়ালে আশা করা যায় শীতকালীন সময়ে শ্বাসনালীর রোগসমূহ ধীরে ধীরে আমাদের দেশে কমে আসবে।

লেখক : ডাঃ নাজিম আহমেদ
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেড
পান্থপথ, ঢাকা

বিডিসংবাদ/এএইচএস