ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক নারী ইউটিউব দেখে জাল নোটের কারখানা গড়ে আটক চার সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে শেখ সাদীর জীবনদর্শন খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী: থাকছে বিশেষ কর্মসূচি নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জে সাবেক এমপির ছেলেকে নিরাপত্তা ঘটনায়: তদন্তে পুলিশ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনা: ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের চিঠি জেলা প্রশাসকের আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কেন নিরপরাধ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে?

  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪
  • / 274
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোটা সংস্কার আন্দোলন একসময় সহিংস রূপ ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুধু তাদের আন্দোলন হয়ে থাকেনি। সমাজের আপামর মানুষও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকার অনেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংসযোগ্য চালায় বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করে। ফলে দেশের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকভাবে গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় রোববার একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ঢাকায় সহিংসতার ঘটনায় ২০৭ মামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশে ১১ দিনে (১৭-২৭ জুলাই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ হাজার জনকে।

অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় অনেক নিরপরাধ মানুষকেও আটক করা হচ্ছে, যারা ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। আবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি যারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল না তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ঢাকার যেসব এলাকায় বেশি বিক্ষোভ ও ভাঙচুর হয়েছে, সেই সব এলাকা থেকে বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কে জড়িত ছিল, কে ছিল না, সেই বাছবিচার করা হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে চরম অরাজকতা সৃষ্টি ও সরকারি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসে যুক্ত ছিল, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ তাতে সরকারের প্রতি আশ্বস্ত হতো। কিন্তু কেন নিরপরাধ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। ধরপাকড়ে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে না?

ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সদস্য কম ছিলেন না। তারা রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করতে না পেরে এখন গণহারে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছেন। তাদের কাছে আমাদের দাবি: যারা প্রকৃত নাশকতাকারী, তাদের ধরুন, নিরপরাধ মানুষকে হেনস্তা করবেন না।

আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে হয়রানি করা হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর মন্ত্রীর কথার বিপরীত কাজ করা হচ্ছে। এতে করে কি শিক্ষার্থীদের মনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে?

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্দেশনায় আছে, কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে; গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে এবং গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে কারণ জানাতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু এসবের কোনোটাই মানা হচ্ছে না।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অতি বলপ্রয়োগ সমস্যা সমাধানের পথ হতে পারে না। সরকার কি এ বিষয়ে কিছু ভাবছে?

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কেন নিরপরাধ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে?

আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪

কোটা সংস্কার আন্দোলন একসময় সহিংস রূপ ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুধু তাদের আন্দোলন হয়ে থাকেনি। সমাজের আপামর মানুষও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকার অনেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংসযোগ্য চালায় বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করে। ফলে দেশের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকভাবে গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় রোববার একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ঢাকায় সহিংসতার ঘটনায় ২০৭ মামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশে ১১ দিনে (১৭-২৭ জুলাই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ হাজার জনকে।

অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় অনেক নিরপরাধ মানুষকেও আটক করা হচ্ছে, যারা ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। আবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি যারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল না তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ঢাকার যেসব এলাকায় বেশি বিক্ষোভ ও ভাঙচুর হয়েছে, সেই সব এলাকা থেকে বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কে জড়িত ছিল, কে ছিল না, সেই বাছবিচার করা হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে চরম অরাজকতা সৃষ্টি ও সরকারি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসে যুক্ত ছিল, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ তাতে সরকারের প্রতি আশ্বস্ত হতো। কিন্তু কেন নিরপরাধ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। ধরপাকড়ে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে না?

ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সদস্য কম ছিলেন না। তারা রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করতে না পেরে এখন গণহারে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছেন। তাদের কাছে আমাদের দাবি: যারা প্রকৃত নাশকতাকারী, তাদের ধরুন, নিরপরাধ মানুষকে হেনস্তা করবেন না।

আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে হয়রানি করা হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর মন্ত্রীর কথার বিপরীত কাজ করা হচ্ছে। এতে করে কি শিক্ষার্থীদের মনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে?

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্দেশনায় আছে, কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে; গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে এবং গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে কারণ জানাতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু এসবের কোনোটাই মানা হচ্ছে না।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অতি বলপ্রয়োগ সমস্যা সমাধানের পথ হতে পারে না। সরকার কি এ বিষয়ে কিছু ভাবছে?