ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অক্টোবরেই ফিরছে স্বাভাবিক ফ্লাইট লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সমর্থকদের নিয়ে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেনের ১৬তম মৃত্যু বাষির্কী আজ

  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২
  • / 298
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ মুনির হোসেনঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নড়াইলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। আজ ১৪ ডিসেম্বর এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকী।

মিষ্টভাষী, পরোপকারী, অসাম্প্রদায়িক, নির্লোভী ও একবারেই সাদামনের মানুষ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বীর সেনানী মোঃ আনোয়ার হোসেন ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। নীতিতে ছিলেন অটল, যিনি মানুষকে ভালবাসতেন, সম্মান দিতেন, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এক কথায় যাকে বলে মানবদরদী। তাঁর জীবন ছিল কর্মময়, ধ্যান-ধারণা ছিল অত্যন্ত সুন্দর, ব্যক্তিগত চরিত্রে ছিল স্বচ্ছতা ও সততার সৌরভে উদ্ভাসিত। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে মিয়াভাই বলে সম্বোধন করতেন।

১৯৪৮ সালের ৮ জুন বৃহত্তম যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার (বর্তমানে জেলা) কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। সমাজের যে কোন অন্যায়- অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল কঠোর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয়ভাবে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতেন।


তিনি সবসময় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিতে অটল ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের একজন গর্বিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো/বাংলাদেশ স্বাধীন করো শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তিনি।

নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। রণাঙ্গনের সফল এই যোদ্ধা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ২৫ বছরের কর্মজীবন শেষ করে ২০০২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।


২০০৬ সালের সেই বিজয়েরই মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিনে ১৪ ডিসেম্বর ব্রেন স্ট্রোক করেন।প্রথমে স্হানীয় হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা রেফার্ড করেন। আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করালেও অবশেষে অসম্ভব গুণী এই মানুষটি স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ১১:১১ ঘটিকার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাঁর জন্ম স্থান কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় তাঁকে। আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-বৈষম্য-অসাম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকা এবং জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এই মহান মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ,তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁহার বড় ও ছোট ছেলে মোহাম্মদ মুনির হোসেন ও লোকমান হোসেন ফ্রান্সের প্যারিসে স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে ভাবে বসবাস করছেন। জনাব মোহাম্মদ মুনির হোসেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তাঁহার মেঝ ছেলে মোঃ জোনায়েদ হোসেন বাংলাদেশ কৃষিব্যাংক নড়াইল জেলা শাখার একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।


ফ্রান্স প্রবাসী তার বড় ছেলে জনাব মোহাম্মদ মুনির হোসেন সকলের কাছে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেনের ১৬তম মৃত্যু বাষির্কী আজ

আপডেট সময় : ১০:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

মোহাম্মদ মুনির হোসেনঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নড়াইলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। আজ ১৪ ডিসেম্বর এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকী।

মিষ্টভাষী, পরোপকারী, অসাম্প্রদায়িক, নির্লোভী ও একবারেই সাদামনের মানুষ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বীর সেনানী মোঃ আনোয়ার হোসেন ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। নীতিতে ছিলেন অটল, যিনি মানুষকে ভালবাসতেন, সম্মান দিতেন, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এক কথায় যাকে বলে মানবদরদী। তাঁর জীবন ছিল কর্মময়, ধ্যান-ধারণা ছিল অত্যন্ত সুন্দর, ব্যক্তিগত চরিত্রে ছিল স্বচ্ছতা ও সততার সৌরভে উদ্ভাসিত। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে মিয়াভাই বলে সম্বোধন করতেন।

১৯৪৮ সালের ৮ জুন বৃহত্তম যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার (বর্তমানে জেলা) কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন। সমাজের যে কোন অন্যায়- অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল কঠোর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয়ভাবে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতেন।


তিনি সবসময় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিতে অটল ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের একজন গর্বিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো/বাংলাদেশ স্বাধীন করো শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তিনি।

নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। রণাঙ্গনের সফল এই যোদ্ধা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ২৫ বছরের কর্মজীবন শেষ করে ২০০২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।


২০০৬ সালের সেই বিজয়েরই মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিনে ১৪ ডিসেম্বর ব্রেন স্ট্রোক করেন।প্রথমে স্হানীয় হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা রেফার্ড করেন। আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করালেও অবশেষে অসম্ভব গুণী এই মানুষটি স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ১১:১১ ঘটিকার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাঁর জন্ম স্থান কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় তাঁকে। আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-বৈষম্য-অসাম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকা এবং জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এই মহান মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ,তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁহার বড় ও ছোট ছেলে মোহাম্মদ মুনির হোসেন ও লোকমান হোসেন ফ্রান্সের প্যারিসে স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে ভাবে বসবাস করছেন। জনাব মোহাম্মদ মুনির হোসেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তাঁহার মেঝ ছেলে মোঃ জোনায়েদ হোসেন বাংলাদেশ কৃষিব্যাংক নড়াইল জেলা শাখার একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।


ফ্রান্স প্রবাসী তার বড় ছেলে জনাব মোহাম্মদ মুনির হোসেন সকলের কাছে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন।