ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাড্ডায় জামায়াতের বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হার উদযাপন করছে তেহরান

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে গণহত্যা দিবস পালিত

  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • / 104
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ শে মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন নগরী ও জেলার জনবহুল স্থানে গণহত্যার উপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাদ জোহর জেলার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত এবং প্রার্থনা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কখনও ম্লান হবে না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সাহস, বিশ্বাস ও চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করি। ওইদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। সে সময় সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এটা চট্টগ্রামের জন্য গর্বের। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এখানে উপস্থিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে তারা সে ইতিহাস শুনেছে। এতে করে তারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে পারবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দরা গণহত্যা নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে নগরীর পাহাড়তলীতে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন ছিল না। ১৯৭১ সালে একটি নতুন দেশের জন্ম হয়েছিল মুক্তিকামী জনগণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি স্বৈরাচারী সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন। তবে এই দুটি ঘটনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, যা কখনোই বিতর্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। আজকে অনেকে ২৪ কে ৭১ এর সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেছে। ২৪ আর ৭১ এক নয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ আমরা দেশ স্বাধীন করেছি একটা নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়েছে। আর ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। যে সরকার ছিল ফ্যাসিস্ট এবং জনবিরোধী। কাজেই দুটোর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। ৭১ এর মাধ্যমে দেশ পেয়েছি, ২৪ এর মাধ্যমে নতুন সরকার পেয়েছি। যে সরকারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ছাত্র-জনতার রক্তস্রোতের মাধ্যমে। আমার বক্তব্য হল, ৭১ কে বিতর্কিত করা যাবে না, ২৪ কেও অবহেলা করা যাবে না, দু’টিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে দেশের উন্নয়নে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে গণহত্যা দিবস পালিত

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ শে মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন নগরী ও জেলার জনবহুল স্থানে গণহত্যার উপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাদ জোহর জেলার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত এবং প্রার্থনা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কখনও ম্লান হবে না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সাহস, বিশ্বাস ও চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করি। ওইদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। সে সময় সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এটা চট্টগ্রামের জন্য গর্বের। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এখানে উপস্থিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে তারা সে ইতিহাস শুনেছে। এতে করে তারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে পারবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দরা গণহত্যা নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে নগরীর পাহাড়তলীতে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন ছিল না। ১৯৭১ সালে একটি নতুন দেশের জন্ম হয়েছিল মুক্তিকামী জনগণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি স্বৈরাচারী সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন। তবে এই দুটি ঘটনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, যা কখনোই বিতর্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। আজকে অনেকে ২৪ কে ৭১ এর সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেছে। ২৪ আর ৭১ এক নয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ আমরা দেশ স্বাধীন করেছি একটা নতুন দেশের অভ্যুদয় হয়েছে। আর ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। যে সরকার ছিল ফ্যাসিস্ট এবং জনবিরোধী। কাজেই দুটোর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। ৭১ এর মাধ্যমে দেশ পেয়েছি, ২৪ এর মাধ্যমে নতুন সরকার পেয়েছি। যে সরকারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ছাত্র-জনতার রক্তস্রোতের মাধ্যমে। আমার বক্তব্য হল, ৭১ কে বিতর্কিত করা যাবে না, ২৪ কেও অবহেলা করা যাবে না, দু’টিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে দেশের উন্নয়নে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস