রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য রোহিঙ্গা সংকটের দায়ভার বহন করতে পারবে না। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক এক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তিনি সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, বরং বাস্তবধর্মী ও কার্যকর সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত শুধু সমর্থনের কথা না বলে সংকট সমাধানে বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই নিহিত। গবেষণা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের দেশ হিসেবে স্বীকার করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিরতে আতঙ্কিত বোধ করছে। তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ প্রত্যাবাসন একটি গভীর আস্থার প্রশ্ন। তবে যে পরিস্থিতির কারণে তারা দেশটি থেকে পালিয়ে এসেছে, সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে তারা রাজি নয়।
প্রতিমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই ভাষণে টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা তৈরি, সহিংসতা বন্ধ, বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনের মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের কথা উঠে এসেছিল। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়।
কক্সবাজারের স্থানীয় পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, সেখানে ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতাকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কক্সবাজারের উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মোট ৭২টি বিস্তারিত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
























