ভোলায় বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নাম করে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘর প্রতি ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘর প্রতি ৫০০ টাকা হারে কর আদায়ের এই চক্রটির কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তরা নিজেদের পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগকৃত খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে। উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে ট্যাক্স আদায় করতে গেলে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। রিয়াজ নামের এক যুবককে ট্যাক্স আদায়ের কারণ ও বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের বিষয়ে অবগত নন বলে নিশ্চিত করেন। এরপর ওই যুবকের কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়লে স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং পরে তার সহযোগী অন্য একজনকেও আটকে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চক্রটি কেবল হাসাননগর নয়, বরং সাচড়া, কাচিয়া ও পক্ষিয়া ইউনিয়নেও একইভাবে কর আদায় করছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক, সচিব এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যদের যোগসাজশ থাকতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে ট্যাক্স আদায়ের সময় আটক ব্যক্তিদের সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কর আরোপের ক্ষমতা রাখে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তা আদায় করতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ আলী জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দুই জনকে গ্রেপ্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। ওসি নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্ত সাপেক্ষে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























