রাজবাড়ীতে মানবপাচারের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 4
রাজবাড়ীতে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার রাজবাড়ী মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজবাড়ীর পাংশা থানার ধুলিয়াট গ্রামের মো. রেজাউল মণ্ডল এবং মো. শাহিদুল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. রেজাউল মণ্ডল (পিতা: আদো মণ্ডল) এবং মো. শাহিদুল মিয়া (পিতা: মৃত আতর আলী মিয়া)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে আসামিরা ভুক্তভোগী মো. ফারুক ও তার খালাতো ভাই আজিজুল ইসলামকে বেড়ানোর কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। ঘটনার ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পাচারকারীদের কবল থেকে পালিয়ে ফিরলেও মো. ফারুকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পরিবারের লোকজন ফারুক ওরফে মারুফকে খুঁজে ফিরছে। মানবপাচারের শিকার ভিকটিম মো. ফারুক ওরফে মারুফকে (১৬) দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে খুঁজে ফিরছে তার পরিবার।
আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন; অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া উভয় আসামিকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, দুই ধরনের সাজা একযোগে কার্যকর হবে। আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
বিচারক রায়ে আরও উল্লেখ করেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাজার বিষয়টি উল্লেখ করে আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
























