ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিশিগান সিনেট নির্বাচন: জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদ তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনা: ৩ দিনের নতুন রিমান্ডে বন্ধু দীপ তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখানোর পরিকল্পনা সরকারের এনসিপির সংবাদ সম্মেলন, এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে খালি সিলিন্ডার নিয়ে দিল্লিতে মসজিদ উচ্ছেদ: বাস্তুচ্যুত ৭১৭ পরিবার, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সীতাকুণ্ডে বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক ও রেললাইন অবরোধ বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে অদম্য পথচলা জয়পুরহাটের বিউটির গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে শাহজালালে সোনা পাচারের সময় ৫ কোটির ডিম জব্দ নাবলুসে ইউসুফ (আ.)-এর মাজার ঘিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান

মিশিগান সিনেট নির্বাচন: জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদ

  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন নিয়ে চলছে তুমুল প্রচার। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সোমবার সন্ধ্যায় পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগানের এই লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪২ শতাংশ সমর্থন। জরিপের তথ্যানুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন, যেখানে জরিপের ভুলের সীমা ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। আল-সাইয়েদের পরিবার মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করে।

সোমবার রাতে রচেস্টার হিলসে আয়োজিত সমাবেশে মাইক রজার্স নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের হৃদয় ও আত্মার লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীকালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের পরাজিত করে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত কি না? রজার্সের প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট দলের অন্দরের কিছু নেতার সমর্থন যোগ হওয়ায় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। টম পেটির ‘আই ওন্ট ব্যাক ডাউন’ গান বাজতে থাকা অবস্থায় মঞ্চে উঠে তিনি নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হৃদয় ও আত্মার’ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন। দেশের বাকি অংশকে এই বার্তা দিতে প্রস্তুত তো যে, আমরাই ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের পরাজিত করেছি?’।

এদিকে ডেট্রয়েটে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স সদস্যদের সমাবেশে আবদুল আল-সাইয়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ম ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে প্রচারের শেষ দিনগুলোতে তাকে ঘিরে ছড়ানো ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। সমাবেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘জ্বালানির দাম যখন বেশি, মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন কেউ নির্বাচনে জিততে চাইলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা এসব নিয়ে কথা বলতে চায় না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প দাবি করছেন তিনি নির্বাচিত হলে দেশে জিহাদিদের ঢল নামবে। এছাড়া ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম বিকৃত করে আবদুল রমজান বলে ডাকছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব আক্রমণের জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প তাকে কি নামে ডাকছেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন, কারণ নির্বাচনের পর তিনি তাকে সিনেটর হিসেবেই সম্বোধন করতে বাধ্য হবেন।

নির্বাচনের শেষ সময়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতর থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তার কাছে পরাজিত হওয়া কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন আল-সাইয়েদ সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন, তাই নিরপেক্ষ না থেকে তিনি রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হ্যালি স্টিভেন্সের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচনার জবাবে স্টিভেন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি দলের ভবিষ্যতের নেতৃত্বে বড় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছেন এবং একটি শক্তিশালী ডেমোক্রেটিক পার্টি গড়তে চান। রজার্সের সমাবেশে তার সমর্থনের ঘোষণাকে সমর্থকেরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান এবং রজার্স তাকে বিশেষ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রশংসা করেন।

মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন এখন শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ দলীয় বিভক্তি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নানামুখী উত্তাপ। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এই প্রচার মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিশিগান সিনেট নির্বাচন: জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদ

আপডেট সময় : ০৪:৫০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন নিয়ে চলছে তুমুল প্রচার। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সোমবার সন্ধ্যায় পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগানের এই লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪২ শতাংশ সমর্থন। জরিপের তথ্যানুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন, যেখানে জরিপের ভুলের সীমা ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। আল-সাইয়েদের পরিবার মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করে।

সোমবার রাতে রচেস্টার হিলসে আয়োজিত সমাবেশে মাইক রজার্স নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের হৃদয় ও আত্মার লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীকালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের পরাজিত করে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত কি না? রজার্সের প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট দলের অন্দরের কিছু নেতার সমর্থন যোগ হওয়ায় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। টম পেটির ‘আই ওন্ট ব্যাক ডাউন’ গান বাজতে থাকা অবস্থায় মঞ্চে উঠে তিনি নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হৃদয় ও আত্মার’ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন। দেশের বাকি অংশকে এই বার্তা দিতে প্রস্তুত তো যে, আমরাই ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের পরাজিত করেছি?’।

এদিকে ডেট্রয়েটে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স সদস্যদের সমাবেশে আবদুল আল-সাইয়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ম ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে প্রচারের শেষ দিনগুলোতে তাকে ঘিরে ছড়ানো ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। সমাবেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘জ্বালানির দাম যখন বেশি, মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন কেউ নির্বাচনে জিততে চাইলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা এসব নিয়ে কথা বলতে চায় না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প দাবি করছেন তিনি নির্বাচিত হলে দেশে জিহাদিদের ঢল নামবে। এছাড়া ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম বিকৃত করে আবদুল রমজান বলে ডাকছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব আক্রমণের জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প তাকে কি নামে ডাকছেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন, কারণ নির্বাচনের পর তিনি তাকে সিনেটর হিসেবেই সম্বোধন করতে বাধ্য হবেন।

নির্বাচনের শেষ সময়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতর থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তার কাছে পরাজিত হওয়া কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন আল-সাইয়েদ সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন, তাই নিরপেক্ষ না থেকে তিনি রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হ্যালি স্টিভেন্সের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচনার জবাবে স্টিভেন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি দলের ভবিষ্যতের নেতৃত্বে বড় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছেন এবং একটি শক্তিশালী ডেমোক্রেটিক পার্টি গড়তে চান। রজার্সের সমাবেশে তার সমর্থনের ঘোষণাকে সমর্থকেরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান এবং রজার্স তাকে বিশেষ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রশংসা করেন।

মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন এখন শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ দলীয় বিভক্তি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নানামুখী উত্তাপ। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এই প্রচার মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।