বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আগের কার্যদিবসে প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরে বড় দরপতন হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমে আসে। একইসঙ্গে ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে। ইরানের এক কর্মকর্তার মন্তব্য এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তেলের দাম এক ডলারের বেশি বেড়েছে। উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহ জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য নেতিবাচক। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৫ শতাংশ দেখছেন ব্যবসায়ীরা। ইরানের এক কর্মকর্তা যুদ্ধের অবসানে চুক্তি এখনো অনেক দূরে বলে মন্তব্য করার পর তেলের দাম ১ ডলারের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। সরবরাহঝুঁকির কারণে জ্বালানির দাম উঁচু থাকায় কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে বাজারের অনিশ্চয়তাও প্রভাব ফেলছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের জয় এআই ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা লোকসান সামাল দিতে স্বর্ণের অবস্থান কমিয়ে দিতে পারেন। এদিকে, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল স্বর্ণে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪০০ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। মূলত বার ও কয়েনের চাহিদা কমায় এই সমন্বয় করা হয়েছে, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়াও প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে স্থিতি পেয়েছে।























