গ্রামপুলিশের বেতন ও অবসর সুবিধা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
গ্রামপুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের এক মহাসমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামপুলিশ প্রধানদের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারি এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেতনের পাশাপাশি অবসরকালীন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যরা অবসর গ্রহণের সময় ৭০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রামপুলিশ প্রধানরা ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ টাকা আনুতোষিক সুবিধা পাবেন। তৃণমূল পর্যায়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলাদেশই নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো দেশেই পড়বে। ফলে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।
তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য আগেভাগেই সংগ্রহ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তা আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। শহরায়ন বাড়লেও দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন এখনো গ্রামকেন্দ্রিক। তাই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতি রক্ষায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজের যে ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতে গ্রামপুলিশ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোথাও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সুবাদে আগেভাগেই কিছু তথ্য জানতে পারেন। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অতীতের সেই শাসন ব্যবস্থায় পরিকল্পিতভাবে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও প্রতিশোধের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়; বরং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্জীবিত করতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি গড়ে তুললে সামাজিক অপরাধের মাত্রা কমে আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রামপুলিশ সদস্যরা এই সামাজিক পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
























