সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
শুধুমাত্র সরকারি সেবা অনলাইনে স্থানান্তর করলেই ডিজিটাল রূপান্তর পূর্ণতা পায় না। বরং নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুলভ হয়েছে, তার ওপরই নির্ভর করে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকৃত সাফল্য। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশন্স’-এর অষ্টম অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি প্রশাসনিক উদ্ভাবন ও নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেন। সংযোগ ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়।
মন্ত্রী বলেন, কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার দিয়ে প্রশাসনের মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল পেতে হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সক্ষমতা ও জনবলের ইতিবাচক মানসিকতা সমানভাবে জরুরি। প্রযুক্তি চালুর আগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, দায়িত্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শক্তিশালী তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে ফকির মাহবুব আনাম তিনটি মূল সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন—দক্ষ প্রতিষ্ঠান, চৌকস জনবল ও জনগণের আস্থা। তার মতে, সরকারি ব্যবস্থাকে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে সাজাতে হবে, নাগরিককে যেন সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য হতে না হয়। প্রযুক্তি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে সক্ষম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের সঠিক প্রয়োগ প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাই বাংলাদেশ সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।
কাগজভিত্তিক সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরোপুরি সেবা-প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এতে প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক হয়রানি কমছে।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রীর সাথে লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজও অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন পাবলিক সার্ভিস ও সামাজিক উদ্ভাবন বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়া এবং সেবাপ্রদানে প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

























