ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

১১ বছর পর মুখোমুখি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া

  • আপডেট সময় : ০১:১১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৭
  • / 201
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  দীর্ঘ ১১ বছর পর টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলেছিল দল দুটি। এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথমটি হয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। আর দ্বিতীয় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের মাটিতে ২০০৬ সালে।

২০০৩ সালে প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। অসিদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ডারউইনের ওই সিরিজের প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ১৩২ রানের ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ইনিংস ও ৯৮ রানের ব্যবধানে জয় পায় অসিরা।

২০০৬ সালে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মত টেস্ট সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়া। ফতুল্লায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুযোগ পেয়েও, তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শাহরিয়ার নাফীসের ১৩৮ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করে টাইগাররা। এরপর প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ১৫৮ রানের লিডটা পরবর্তীতে ৩০৬ রানে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩০৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য টার্গেটে খেলতে নেমে বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের ঘুর্ণিতে ২৭৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কোচিত ইনিংস, অসিদের ৩ উইকেটের জয় এনে দেয়। ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন পন্টিং।

এরপর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ৮০ রানের ব্যবধানে জিতে সিরিজে নিজেদের করে রাখে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে টেস্ট সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিলো অসিদের।

সবকিছু ঠিকঠাক, সারা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া দলের আগমনের প্রতীক্ষায় সময় গুনছে। ঠিক তখনই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করে দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দিলেও মন গলেনি অস্ট্রেলিয়ার। কয়েকদিন পরই অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। বাংলাদেশ সফলভাবে আয়োজন করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, কোনো ক্রিকেট দলই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অনুযোগ তোলেনি। শুধু অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে কারণে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তাদের দল পাঠায়নি।

২০১৫ টেস্ট সফর বাতিল করার পর অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বলেছিল, এ সফরটি তারা পরে সুবিধামতো এক সময়ে করবে। সেই ‘সুবিধামতো সময়টা’ অবশেষে এল। ইংল্যান্ডের নির্বিঘ্ন বাংলাদেশ সফর নিশ্চয়ই ভূমিকা রেখেছে এখানে। ইংল্যান্ড দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলে গেছে গত বছরের অক্টোবরে। ইংল্যান্ড দলকে দেয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলকেও। নিরাপত্তাব্যবস্থা, ম্যাচের ভেন্যু, আবাসন সুবিধা- সবকিছু খতিয়ে দেখে গেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদল। তারপরই আলোর মুখ দেখতে পারছে অস্ট্রেলিয়া দলের এই সফর।

তবে বর্ষা মৌসুমে এবার অস্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে বাংলাদেশে। এই বৃষ্টি সিরিজটার ওপরও চোখ রাঙাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস যা বলছে, তাতে আগস্ট মাসজুড়েই হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টিবিহীন শুষ্ক আবহাওয়ার নিশ্চয়তা মিলবে হয়তো সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সিরিজ তো তার আগেই শেষ!

যদি বৃষ্টির আনুকূল্য মেলে, তাহলে জমজমাট এক সিরিজের আশা করাই যায়। সাম্প্রতিক অতীতে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড মোটেই ভালো নয়।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি সিরিজেই পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় করার সম্ভাবনাই বেশি।

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। আর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

১১ বছর পর মুখোমুখি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় : ০১:১১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৭

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  দীর্ঘ ১১ বছর পর টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলেছিল দল দুটি। এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথমটি হয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। আর দ্বিতীয় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের মাটিতে ২০০৬ সালে।

২০০৩ সালে প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। অসিদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ডারউইনের ওই সিরিজের প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ১৩২ রানের ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ইনিংস ও ৯৮ রানের ব্যবধানে জয় পায় অসিরা।

২০০৬ সালে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মত টেস্ট সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়া। ফতুল্লায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুযোগ পেয়েও, তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শাহরিয়ার নাফীসের ১৩৮ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করে টাইগাররা। এরপর প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ১৫৮ রানের লিডটা পরবর্তীতে ৩০৬ রানে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩০৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য টার্গেটে খেলতে নেমে বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের ঘুর্ণিতে ২৭৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কোচিত ইনিংস, অসিদের ৩ উইকেটের জয় এনে দেয়। ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন পন্টিং।

এরপর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ৮০ রানের ব্যবধানে জিতে সিরিজে নিজেদের করে রাখে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে টেস্ট সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিলো অসিদের।

সবকিছু ঠিকঠাক, সারা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া দলের আগমনের প্রতীক্ষায় সময় গুনছে। ঠিক তখনই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করে দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দিলেও মন গলেনি অস্ট্রেলিয়ার। কয়েকদিন পরই অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। বাংলাদেশ সফলভাবে আয়োজন করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, কোনো ক্রিকেট দলই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অনুযোগ তোলেনি। শুধু অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে কারণে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তাদের দল পাঠায়নি।

২০১৫ টেস্ট সফর বাতিল করার পর অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বলেছিল, এ সফরটি তারা পরে সুবিধামতো এক সময়ে করবে। সেই ‘সুবিধামতো সময়টা’ অবশেষে এল। ইংল্যান্ডের নির্বিঘ্ন বাংলাদেশ সফর নিশ্চয়ই ভূমিকা রেখেছে এখানে। ইংল্যান্ড দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলে গেছে গত বছরের অক্টোবরে। ইংল্যান্ড দলকে দেয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলকেও। নিরাপত্তাব্যবস্থা, ম্যাচের ভেন্যু, আবাসন সুবিধা- সবকিছু খতিয়ে দেখে গেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদল। তারপরই আলোর মুখ দেখতে পারছে অস্ট্রেলিয়া দলের এই সফর।

তবে বর্ষা মৌসুমে এবার অস্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে বাংলাদেশে। এই বৃষ্টি সিরিজটার ওপরও চোখ রাঙাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস যা বলছে, তাতে আগস্ট মাসজুড়েই হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টিবিহীন শুষ্ক আবহাওয়ার নিশ্চয়তা মিলবে হয়তো সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সিরিজ তো তার আগেই শেষ!

যদি বৃষ্টির আনুকূল্য মেলে, তাহলে জমজমাট এক সিরিজের আশা করাই যায়। সাম্প্রতিক অতীতে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড মোটেই ভালো নয়।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি সিরিজেই পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় করার সম্ভাবনাই বেশি।

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। আর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।