খুলনার সাংবাদিক বেলাল হত্যা মামলার আসামী ধীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে
- আপডেট সময় : ১২:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪
- / 559
বিডিসংবাদ অপরাধ ডেস্কঃ
খুলনার সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামী ও চরম পন্থী নেতা শাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরা গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
নানা ভয়ভীতি ও ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে গিয়ে দেশে অগনিত সাংবাদিক তাদের জীবন হারাতে হয়েছে। অনেককে হাত পা সহ নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়ে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাদের এ যাপিত জীবন অনেক দুঃখ কষ্টের এবং বেদনাদায়ক। ক্ষমতাসীন এবং প্রভাবশালীদের দাপট ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে নিহত সাংবাদিকদের পরিবার ও আত্নীয় স্বজন অনেক হত্যাকান্ডের বিচার পায়নি। আলোচিত সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর রুনির হত্যাকান্ডের মতো খুলনার সাংবাদিক বেলাল হত্যাকান্ডের বিচার আজ অবধি হয়নি ।
গত দেড়যুগে পেশাগত কাজে খুলনায় দুর্বৃত্তদের হাতে সাংবাদিক বেলালসহ ৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন এবং অসংখ্য সাংবাদিক হামলা মামলা ও হয়রানির শিকার। এর মধ্যে রয়েছে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার বিএল কলেজ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম রফিক । খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক অনিবার্ণ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নহর আলী , দৈনিক পূবার্ঞ্চল পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার হারুন অর রশিদ , দৈনিক অনিবার্ণ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শুকুর আলী ,দৈনিক সংবাদের খুলনার ব্যুরো প্রধান মানিক চন্দ্র সাহা , খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু ।
এ ছাড়া গত ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯ টার দিকে খুলনার প্রেসক্লাবের অভ্যর্থনা কক্ষের সামনে মোটর সাইকেলের হ্যান্ডেলে সন্ত্রাসীদের রাখা রিমোট কন্ট্রোল বোমায় খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান শেখ বেলাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরের দিন তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
খুলনা সদর থানার এস আই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামাদের আসামী করে আহত ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে শাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরা, এখলাসুর রহমান এখলাস, চরম পন্থী নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে হাসান, ইকবাল হোসেন স্বাধীন ও মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, রিক্সা চালক গদা ইউনুসকে হত্যা মামলার আসামী করে চার্জশীট দাখিল করেন। সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন হত্যার বিচার নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তার ছোট ভাই শেখ শামছুদ্দিন দোহা বলেন, “আমার ভাইয়ের হত্যা মামলায় কয়েকজনকে নাম মাত্র সাজা দেয়া হয় কিন্তু হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মদদ দাতা ও অর্থ যোগান দাতাদের নাম আসেনি। ফলে আমার ভাইয়ের হত্যার প্রকৃত বিচার পায়নি”। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব, দৈনিক আমার দেশের খুলনার ব্যুরো প্রধান এহতেশামূল হক শাওন বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা নজির বিহীন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে” ।

ডেইলী স্টার ও বিডিনিউজ ২৪.কম (এপ্রিল ৪, ২০০৫) এর তথ্যমতে, গত ৫ জুলাই ২০০৫ শাহাবুদ্দিন লস্করকে ঢাকা সিআইডি অফিসের ম্যাধমে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে দুই দিন রিমান্ডে রাখা হয়। কোন তথ্য না পাওয়াতে তাকে আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়। শাহাবুদ্দিন লস্কার ধীরা সাংবাদিক বেলাল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ যোগান দাতা। খুলনা ২৩ নং ওয়ার্ডের জামায়েতে ইসলামীর সভাপতি ও স্বশস্ত্র গ্রুপের গডফাদার শাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরার আন্ডার গ্রাউন্ড পার্টির সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল। সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন শাহাবুদ্দিন লস্করের সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গেলে ধীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বার বার আক্রমণ করে। উল্লেখ্য, চরম পন্থী ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন প্রথম কলম ধরেন। অবশেষে তারই প্রতিহিংসায় শাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরা কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নিয়ে সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিনকে চির তরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তার ভাই ডাক্তার শওকাত আলী লস্করের অর্থ সহায়তায় ঢাকায় হাউজিং ব্যবসা শুরু করে। জিয়ো প্রপার্টিজ নামে হাউজিং কোম্পানির এমডি হয়ে ব্যবসার নামে ছলচাতুরী ও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। একই সাথে বায়োগ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিপিএল হাউজিং এর প্রজেক্ট ডিরেক্টরের দায়িত্ব পেয়ে যান।
এ প্রজেক্টের অর্থ কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়ে এবং কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎ করে যা কোম্পানির তদন্ত রিপোর্ট ও অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। এছাড়া মিথ্যা হত্যা মামলার নাটক সাজিয়ে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জিম্মি করে বিপুল অর্থবৃত্তের মালিক বনে যান। এভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানাসহ রাজধানীর বিভিন্ন্ থানায় দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময়ে ১৪ টি জিডি করেন। উল্লেখযোগ্য জিডিগুলোর মধ্যে রয়েছে জিডি নং ১২৩ তাং ০৩/০১/২০২৪ (হাতির ঝিল থানা), জিডি নং ২২০ তারিখ ০৫/০১/২০২৪ (রুপনগর থানা), জিডি নং ১৩৮ তারিখ ০৩/০১/২০২৪ (রুপনগর থানা), জিডি নং ২২৬ তারিখ ০৩/০১/২০২৪ (মোহাম্মদপুর থানা), জিডি নং ৭৫০ তারিখ ১১/০১/২০২৪ মোহাম্মদপুর থানা, জিডি নং ৭৩ তারিখ ০২/০১/২০২৪ আদাবর থানা, জিডি নং ১৩০ তারিখ ০৩/০১/২০২৪ (কলাবাগান থানা), জিডি নং ১৫০৭ তারিখ ৩১/১২/২০২৩ (কলাবাগান থানা), জিডি নং ৫০৭ তারিখ ৮/০১/২০২৪ (মোহাম্মদপুর থানা), জিডি নং ৪৪৬ তারিখ ০৯/০১/২০২৪ (ধানমন্ডি থানা), জিডি নং ৪২৩ তারিখ ১০/০১/২০২৪ (আদাবর থানা), জিডি নং ৩৮৫ তারিখ ১০/০১/২০২৪ (কলাবাগান থানা), জিডি নং ৬৩৮ তারিখ ১৫/০৯/২০২৪, জিডি নং ৬৪৮ তারিখ ১১/০৩/২০২৪। কলাবাগান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলা নাম্বার ৫ তারিখ ০৭/০৩/২০২৪।
বর্তমানে সে গ্রেফতার এড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ, র্যা ব তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি—২০২৪ তারিখে খুলনা শহরে সাংবাদিক সমাজ সংঘবদ্ধ ভাবে সকল সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচী এবং প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এ প্রতিবাদ সভায় আলোচকবৃন্দ সাংবাদিক হত্যার মদদ দাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ যোগান দাতাদের বিচারের দাবিতে সরকারের হস্থক্ষেপ কামানা করে গনমাধ্যম কমীর্দের নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়। এ সময় সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন হত্যার অন্যতম আসামী শাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরার ফাঁসির দাবিতে খুলনা শহরের অলি গলিতে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজের পোস্টার দেখা যায়।
























