শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড ভারত সফরের পথে বাধা কি
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই পরিস্থিতি নিয়ে এক পাল্টা প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে এমন কর্মকাণ্ড চালাত, তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি ঢাকা সফর করতেন? ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পথ সুগম করতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। কূটনৈতিক চ্যানেলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ভারত যাবেন না এমন কথা কখনোই বলেননি। তবে নভেম্বরে সফরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, কারণ এটি কেবল তারিখ নির্ধারণের বিষয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে, তবে তার আগে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কথাবার্তার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে হুমায়ুন কবির বলেন, এক দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ভারত থেকে কেউ যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, তবে বাংলাদেশ তা কখনোই বরদাশত করবে না; ভারতও তাদের মাটি ব্যবহার করে এমন কাজ হতে দেবে না বলেই তার প্রত্যাশা। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে কিছু বৈঠক বাতিল করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো অনুধাবনের পাশাপাশি তিনি জানান, ভারতের সাথে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঢাকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সব বিষয়ে আলোচনা চালানো হবে।
গঙ্গা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী নভেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই ভারত সরকারের সাথে এই নবায়ন প্রক্রিয়ায় আলোচনা করবে বাংলাদেশ। সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনীতির দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সকল জটিলতার নিরসন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকা দরকার, সেটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
























