ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ : বিএসইসি চেয়ারম্যান

  • আপডেট সময় : ১১:২১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 28
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

উৎপাদন বন্ধ ও দীর্ঘদিন অচল থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন হওয়ায় বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বড় বেসরকারি কোম্পানিকেও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

মার্জিন ঋণ নীতিমালা প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরও সহজ হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি দুই দিনে সম্পন্ন হয়। এটি কমিয়ে টি+১, অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ : বিএসইসি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ১১:২১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

উৎপাদন বন্ধ ও দীর্ঘদিন অচল থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন হওয়ায় বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বড় বেসরকারি কোম্পানিকেও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

মার্জিন ঋণ নীতিমালা প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরও সহজ হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি দুই দিনে সম্পন্ন হয়। এটি কমিয়ে টি+১, অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস